দিনভর ত্বকে চুলকানি, রাতের ঘুমে ব্যাঘাত, অথচ তেমন কোনও দৃশ্যমান ফুসকুড়ি নেই— এমন সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। সাধারণত গরম, অ্যালার্জি বা লিভারের সমস্যা ভাবা হলেও চিকিৎসকদের মতে, শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিনের ঘাটতিও এর অন্যতম কারণ হতে পারে। ত্বক শরীরের ভেতরের পুষ্টিগত অবস্থার প্রতিফলন— তাই সামান্য ঘাটতিও বড় সংকেত দিতে পারে।
ভিটামিন এ-এর ঘাটতি: শুষ্কতা ও চুলকানির সূত্রপাত
ভিটামিন এ ত্বককে কোমল ও স্বাস্থ্যকর রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর অভাবে ত্বক রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে পড়ে। বিশেষ করে কনুই, হাঁটু ও গোড়ালির আশেপাশে অতিরিক্ত চুলকানি অনুভূত হতে পারে। দীর্ঘদিন ঘাটতি থাকলে ত্বক খসখসে হয়ে যায়।
ভিটামিন বি১২: স্নায়ু ও ত্বকের সংকেত
ভিটামিন বি১২-এর অভাব শুধু রক্তাল্পতা নয়, ত্বকের সমস্যাও ডেকে আনতে পারে। হালকা ফুসকুড়ি, জ্বালাপোড়া অনুভূতি ও চুলকানি দেখা দিতে পারে। অনেক সময় হাত-পায়ে ঝিনঝিন বা সূচ ফোটার মতো অনুভূতিও হয়, যা অভাবের লক্ষণ হতে পারে।
ভিটামিন বি৩ (নায়াসিন): লালচে ভাব ও খোসা ওঠা
ভিটামিন বি৩-এর ঘাটতিতে ত্বক লাল হয়ে যেতে পারে, খোসা ছাড়াতে পারে এবং চুলকানি বাড়তে পারে। রোদে বেরোলেই ত্বকে জ্বালা বা পোড়া অনুভূত হওয়ার প্রবণতাও বেড়ে যায়। গুরুতর ক্ষেত্রে ছোট ক্ষতও তৈরি হতে পারে।
ভিটামিন সি: ত্বক মেরামতের চাবিকাঠি
ভিটামিন সি কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে, যা ত্বককে মজবুত রাখে। এর ঘাটতিতে ত্বক দুর্বল ও শুষ্ক হয়ে পড়ে। ফলে চুলকানি ও ছোট ফুসকুড়ির ঝুঁকি বাড়ে। সহজে আঘাতের দাগও সারতে সময় লাগে।
ভিটামিন ই: আর্দ্রতার অভাবে সমস্যা
ভিটামিন ই ত্বককে আর্দ্র ও সুরক্ষিত রাখে। এই ভিটামিনের অভাবে ত্বক নিস্তেজ ও শুষ্ক হয়ে যায়, যার ফলে চুলকানি বাড়তে পারে। ত্বকের প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়।
শরীরে বারবার চুলকানি বা ফুসকুড়ির পিছনে শুধু অ্যালার্জি বা আবহাওয়া দায়ী নাও হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনের ঘাটতিও ত্বককে শুষ্ক, সংবেদনশীল ও চুলকানিযুক্ত করে তুলতে পারে। কোন কোন ভিটামিনের অভাবে এই সমস্যা বাড়ে, জানুন বিস্তারিত।













