ঘর যত পরিষ্কারই রাখা হোক না কেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মেঝের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা কমে যাওয়া খুবই সাধারণ সমস্যা। প্রতিদিন জল দিয়ে মুছলেও অনেক সময় তেলচিটে ভাব ও পুরনো ময়লা পুরোপুরি উঠে যায় না। তবে সপ্তাহে মাত্র একদিন একটি বিশেষভাবে পরিষ্কার করলেই মেঝে আবার নতুনের মতো ঝকঝকে হয়ে উঠতে পারে।
প্রতিদিন মেঝে মোছা সত্ত্বেও কেন ঝিলিক থাকে না?
বাড়ির মেঝের উপর দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের যাতায়াত হয়। সঙ্গে আসে ধুলো, রান্নাঘরের তেলচিটে ভাব ও খাবারের কণা। শুধু জল বা সাধারণ ফিনাইল ব্যবহার করলে উপরের ময়লা পরিষ্কার হলেও ভিতরে জমে থাকা চিটচিটে স্তর থেকেই যায়। এই আস্তরণই ধীরে ধীরে মেঝের স্বাভাবিক ঝিলিক নষ্ট করে দেয়।
ডিটারজেন্টে পরিষ্কার হলেও সমস্যার সমাধান হয় না কেন?
অনেকেই মনে করেন বেশি ডিটারজেন্ট ব্যবহার করলেই মেঝে বেশি পরিষ্কার হবে। কিন্তু বাস্তবে অতিরিক্ত কেমিক্যাল মেঝের উপর এক ধরনের পাতলা স্তর তৈরি করে, যা ধুলোকে আরও বেশি আটকে রাখে। এর ফলেই পরিষ্কার করার পরেও মেঝে কালচে বা নিষ্প্রভ দেখায়।
সপ্তাহে একদিনের টোটকাতেই ম্যাজিক
এই সমস্যার সমাধান খুবই সহজ এবং সম্পূর্ণ ঘরোয়া। সপ্তাহে একদিন নুন ও বেকিং সোডা দিয়ে গভীর পরিষ্কার করলেই মিলবে ম্যাজিকের মতো ফল। বিশেষ করে টাইলস ও মার্বেলের মেঝেতে এই পদ্ধতি দারুণ কাজ করে।
কী ভাবে করবেন এই গভীর পরিষ্কার?
প্রথম ধাপ:
সমান পরিমাণ খোলা নুন (রক সল্ট) ও বেকিং সোডা ভালো করে মিশিয়ে নিন।
দ্বিতীয় ধাপ:
মিশ্রণটি শুকনো মেঝের উপর হালকা ভাবে ছড়িয়ে দিন। এরপর নরম ব্রাশ বা শুকনো কাপড় দিয়ে আলতো করে স্ক্রাব করুন। এতে পুরনো ময়লা, তেলচিটে ভাব ও দাগ সহজেই আলগা হয়ে যাবে।
তৃতীয় ধাপ:
সবশেষে সাধারণ পরিষ্কার জল দিয়ে মেঝে ভালো করে মুছে নিন।
কোন ধরনের মেঝেতে বেশি কার্যকর?
এই পদ্ধতি বিশেষ ভাবে কার্যকর টাইলস, মার্বেল ও মোজাইক মেঝের ক্ষেত্রে। তবে খুব নরম কাঠের মেঝেতে স্ক্রাব করার সময় বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি।
প্রতিদিন মেঝে মোছা সত্ত্বেও কি ঘরের মেঝে নিষ্প্রভ দেখাচ্ছে? শুধু জল বা ডিটারজেন্ট নয়, সপ্তাহে একদিন নুন ও বেকিং সোডার একটি সহজ পদ্ধতি মানলেই ফিরবে মেঝের হারানো ঝিলিক। বিশেষ করে টাইলস ও মার্বেলের ক্ষেত্রে মিলবে চোখে পড়ার মতো ফল।













