নভেম্বরের শুরু থেকেই শীতের আমেজ অনুভূত হতে শুরু করেছে। রাতের তাপমাত্রা নামতে থাকলে আলমারি থেকে বেরিয়ে আসে লেপ-কম্বল। বিশেষ করে বাংলার মফস্বল ও গ্রামাঞ্চলে শীতের রাতে লেপের উষ্ণতার বিকল্প এখনও খুঁজে পাওয়া কঠিন। তবে লেপের তুলোর মতোই তার লাল রঙও বহুদিনের পরিচিত। এই রঙের পিছনে ঠিক কী ইতিহাস লুকিয়ে রয়েছে, তা জানলে অবাক হতে পারেন।
শীত এলেই বাড়ে লেপ তৈরির ব্যস্ততা
শীতের মরশুম শুরু হওয়ার আগেই লেপ ও তোষকের দোকানগুলিতে বাড়তে থাকে ক্রেতাদের আনাগোনা। নভেম্বর থেকে পরবর্তী কয়েক মাস লেপ তৈরির কারিগর ও ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা তুঙ্গে থাকে। আধুনিক কমফোর্টার কিংবা রংবেরঙের কম্বলের ব্যবহার বাড়লেও বহু বাঙালি এখনও পুরনো লেপের আরামকেই বেশি পছন্দ করেন।লেপের ভিতরে সাধারণত তুলো ভরা থাকে। তুলোর স্তরের মধ্যে আটকে থাকা বাতাস শরীরের তাপ ধরে রাখতে সাহায্য করে। ফলে ঠান্ডার সময় শরীর উষ্ণ থাকে। এই কারণেই দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অঞ্চলে লেপ বা রজাই ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে।
নবাবি আমল থেকেই কি লাল কাপড়ের প্রচলন?
লেপের লাল রঙ নিয়ে একটি প্রচলিত ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা রয়েছে। শোনা যায়, বাংলার নবাব মুর্শিদকুলি খাঁর আমলে লেপ তৈরির জন্য লাল মখমলের কাপড় ব্যবহার করা হত। পরবর্তী সময়ে তাঁর জামাতা নবাব সুজাউদ্দিনের আমলে মখমলের পরিবর্তে লেপের আবরণে সিল্কের কাপড় ব্যবহারের চল শুরু হয়।তবে কাপড়ের ধরন বদলালেও রঙের ক্ষেত্রে বিশেষ পরিবর্তন আসেনি। পরবর্তীকালে মখমল ও সিল্কের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থাকায় অপেক্ষাকৃত সস্তা সাধারণ কাপড় দিয়ে লেপ তৈরির চল বাড়ে। কিন্তু লাল রঙের ঐতিহ্য বজায় থেকে যায়।
লাল কাপড় ব্যবহারের পিছনে রয়েছে ব্যবহারিক কারণও
লেপের লাল রঙের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরও একটি প্রচলিত যুক্তি। লেপ সাধারণত বছরের পর বছর ব্যবহার করা হয় এবং এর বাইরের আবরণ নিয়মিত ধোয়া সহজ নয়। তাই লাল রঙের কাপড়ে ময়লা বা দাগ তুলনামূলকভাবে কম চোখে পড়ে বলে মনে করেন অনেকে।যদিও এই ব্যাখ্যা নিয়েও মতভেদ রয়েছে। লাল কাপড় ব্যবহারের একমাত্র কারণ যে ময়লা আড়াল করা, এমন কোনও সর্বজনস্বীকৃত প্রমাণ নেই।
ক্রেতার নজর কাড়তেও কি লাল রঙের ব্যবহার?
লেপ ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, লাল কাপড় ব্যবহারের পিছনে ব্যবসায়িক কারণও থাকতে পারে। দোকানের বাইরে বা রাস্তার ধারে লাল কাপড়ে মোড়া লেপ দূর থেকেই সহজে নজরে পড়ে। ফলে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সহজ হয়।আবার অনেকে মনে করেন, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য মেনেই এখনও লাল কাপড়ে লেপ তৈরি করা হয়। অর্থাৎ নবাবি আমলের প্রচলন, ব্যবহারিক সুবিধা এবং বাজারের চাহিদা—সব মিলিয়েই লাল রঙের এই পরিচিতি টিকে থাকতে পারে।
শীত এলেই বাঙালির ঘরে ঘরে বেরিয়ে পড়ে বহুদিনের সঙ্গী লেপ। ব্ল্যাঙ্কেট ও কমফোর্টারের জনপ্রিয়তা বাড়লেও লেপের কদর আজও অটুট। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, বেশিরভাগ লেপের বাইরের কাপড় লাল রঙের হয় কেন? এর পিছনে রয়েছে নবাবি আমলের প্রচলিত রীতি, ব্যবহারিক সুবিধা এবং ব্যবসায়ীদের কয়েকটি প্রচলিত ব্যাখ্যা।













