হাড়-কাঁপানো শীত! শরীর গরম ও রোগমুক্ত রাখতে মুলো-গাজরের সঙ্গে এই ৫ সবজি রাখুন পাতে

হাড়-কাঁপানো শীত! শরীর গরম ও রোগমুক্ত রাখতে মুলো-গাজরের সঙ্গে এই ৫ সবজি রাখুন পাতে

শীত যে এসে পড়েছে, তা আর আলাদা করে বোঝানোর দরকার নেই। ভোরের কুয়াশা থেকে রাতের হিমেল হাওয়া—সব মিলিয়ে শরীর যেন কাঁপতেই থাকে। এই সময়ে শুধু গরম জামাকাপড় নয়, শরীরকে ভিতর থেকে শক্ত রাখতে দরকার সঠিক খাদ্যাভ্যাস। প্রকৃতির ভাণ্ডারে থাকা শীতের সবজিগুলিই হতে পারে এই ঠান্ডার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

কাঁচকলা: পেট ঠান্ডা রাখে, রোগ দূরে রাখে

শীতকালে কাঁচকলার সবজি অত্যন্ত উপকারী। এতে রয়েছে ফাইবার, ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। কাঁচকলার প্রদাহবিরোধী গুণ পেটের সমস্যা কমায় এবং ঠান্ডাজনিত নানা রোগ থেকে শরীরকে সুরক্ষা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত কাঁচকলা খেলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে।

গাজর: চোখ থেকে রোগপ্রতিরোধ—সবেতেই কার্যকর

শীতের গাজর পুষ্টিগুণে ভরপুর। বিটা-ক্যারোটিন সমৃদ্ধ এই সবজি চোখের স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। পাশাপাশি গাজর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শীতের সংক্রমণ থেকে শরীরকে রক্ষা করে। কাঁচা স্যালাড বা হালকা রান্না—দুই ভাবেই খাওয়া যেতে পারে।

গাজর ও ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ

গাজরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার বিপাকক্রিয়া উন্নত করে। এটি কিডনিকে শক্তিশালী করে ইউরিক অ্যাসিড বের করতে সাহায্য করে। গেঁটেবাত বা ওজনজনিত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য গাজর বিশেষভাবে উপকারী বলে মনে করছেন পুষ্টিবিদরা।

পালং শাক: শীতের পুষ্টির ভাণ্ডার

শীতকালে পালং শাক মানেই স্বাস্থ্যের জ্যাকপট। এতে রয়েছে ভিটামিন সি, কে, ফলিক অ্যাসিড, আয়রন ও ক্যালসিয়াম। চিকিৎসক মিল্টন সরকারের মতে, শীষ পালং শাক কম ক্যালোরিযুক্ত হলেও এতে প্রচুর ভিটামিন ও মিনারেল থাকে। শীতের সময় পালং শাকের রস বা রান্না করা শাক শরীরকে ভিতর থেকে শক্ত করে।

বাঁধাকপি: সর্দি-কাশির প্রাকৃতিক ঢাল

সবুজ ও লাল—দুই ধরনের বাঁধাকপিই শীতে উপকারী। তবে লাল বাঁধাকপিতে পুষ্টিগুণ আরও বেশি। ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই সবজি সর্দি-কাশি প্রতিরোধ করে এবং হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

মুলো: শীতের সুপারফুড

শীতকাল মানেই মুলোর মরশুম। ভিটামিন বি, সি ও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ মুলো শরীর ডিটক্স করতে সাহায্য করে। এতে থাকা আইসোথিওসায়ানেট ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক বলে মনে করা হয়। রান্না করা ছাড়াও কাঁচা স্যালাড হিসেবে মুলো খাওয়া যায়।

শীতের মরশুমে ঠান্ডা, সর্দি-কাশি ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া বড় সমস্যা। চিকিৎসকদের মতে, মুলো, গাজর থেকে শুরু করে পালং শাক ও বাঁধাকপির মতো কিছু শীতকালীন সবজি নিয়মিত খেলে শরীর থাকবে উষ্ণ ও সুস্থ।

Leave a comment