আধুনিক কর্মজীবী নারীরা আজ শিক্ষা, কেরিয়ার ও স্বাধীনতার সঙ্গে সঙ্গে মাতৃত্বের সিদ্ধান্তও নিজের মতো করে নিতে চান। কিন্তু তিরিশের পর প্রেগন্যান্সি মানেই ঝুঁকি—এই ধারণা বহু নারীর মনে অযথা ভয় ঢুকিয়ে দেয়। আসলে বয়স ও উর্বরতা নিয়ে কতটা সত্য, আর কতটাই বা মিথ? এই প্রশ্নের উত্তরই তুলে ধরেছেন আভা সার্জি সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরামর্শদাতা ডা. বাণীকুমার মিত্র।

উর্বরতা: সামাজিক নয়, জৈবিক বাস্তবতা
বিশেষজ্ঞের মতে, নারীর উর্বরতা পুরোপুরি জৈবিক প্রক্রিয়ার উপর নির্ভরশীল। জন্মের সময় থেকেই নির্দিষ্ট সংখ্যক ডিম্বাণু নিয়ে একজন নারী জন্মান, যা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে কমে আসে। সাধারণত বিশ ও ত্রিশের শুরুর দিকেই উর্বরতা সর্বোচ্চ থাকে, তিরিশের মাঝামাঝি থেকে ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে শুরু করে।
বেশি বয়স মানেই অসম্ভব—এই মিথ ভাঙা জরুরি
অনেকের ধারণা, সুস্থ জীবনযাপন করলেই বয়সজনিত উর্বরতা হ্রাস ঠেকানো সম্ভব। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, ভালো ডায়েট ও ব্যায়াম সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখলেও ডিম্বাণুর বয়স থামানো যায় না। আবার আইভিএফ বা আধুনিক প্রযুক্তি যে কোনও বয়সে গর্ভধারণ নিশ্চিত করতে পারে—এই ধারণাও পুরোপুরি সত্য নয়।

কেরিয়ার বনাম মাতৃত্ব: ভারসাম্যই আসল চাবিকাঠি
আজকের কর্মঠ নারীরা আগে কেরিয়ার গুছিয়ে নিতে চান, যা একেবারেই স্বাভাবিক। তবে উর্বরতার সময়সীমা সম্পর্কে সচেতন না হলে ভবিষ্যতে মানসিক ও শারীরিক চাপ বাড়তে পারে। তাই সময়মতো পরিকল্পনা, প্রয়োজনে এগ ফ্রিজিং-এর মতো বিকল্প ভাবা গুরুত্বপূর্ণ।

মানসিক চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশার বোঝা
সমাজ এখনও অনেক সময় নারীদের উপর অবাস্তব প্রত্যাশা চাপিয়ে দেয়—যেন যে কোনও বয়সেই মাতৃত্ব সহজ। গর্ভধারণে দেরি হলে অনেক নারী নিজেকেই দোষারোপ করেন। বিশেষজ্ঞের মতে, উর্বরতার জৈবিক দিক বোঝা গেলে এই অপরাধবোধ অনেকটাই কমে।

নিয়মিত উর্বরতা পরীক্ষা কেন জরুরি
গর্ভধারণের পরিকল্পনার অনেক আগেই হরমোন, ডিম্বাশয়ের রিজার্ভ ও ঋতুচক্র পরীক্ষা করানো ভবিষ্যতের জন্য সহায়ক হতে পারে। এতে নারীরা আগেভাগেই নিজের শরীর সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পান এবং সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

কেরিয়ার ও ব্যক্তিগত লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে আজ বহু কর্মজীবী নারী দেরিতে মাতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তবে বয়স বাড়লে প্রেগন্যান্সি নিয়ে সমাজে প্রচলিত নানা ভুল ধারণা এখনও আতঙ্ক তৈরি করে। এই প্রতিবেদনে বেশি বয়সে গর্ভধারণ সংক্রান্ত মিথ ও বাস্তবতা পরিষ্কার করলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।













