বর্তমান ব্যস্ত জীবনে অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও ঘুমের অভাব ধীরে ধীরে শরীরে বাসা বাঁধাচ্ছে এক নীরব রোগ—নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ। চিকিৎসাবিজ্ঞানে যা এখন পরিচিত MASLD (Metabolic Dysfunction–Associated Steatotic Liver Disease) নামে। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এই রোগ মারাত্মক লিভার প্রদাহ ও ফাইব্রোসিসের দিকে গড়াতে পারে। তবে আশার কথা, ওষুধ ছাড়াও রয়েছে কার্যকর চিকিৎসার পথ।

NAFLD থেকে MASLD: নাম বদলাল কেন?
চিকিৎসকদের মতে, এই রোগের মূল কারণ শুধুমাত্র অ্যালকোহল নয়, বরং স্থূলতা, ডায়াবেটিস, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও বিপাকীয় গোলমাল। সেই কারণেই NAFLD-এর বদলে এখন MASLD শব্দটি বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে, যা রোগের আসল উৎসকে স্পষ্ট করে।
ওজন কমানোই সবচেয়ে শক্তিশালী ‘ওষুধ’
ডা. কপিল কুমার কুরসিওয়ালের মতে, MASLD চিকিৎসায় ওজন কমানোই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
মাত্র ৩–৫% ওজন কমলে লিভারের চর্বি কমে

খাদ্যাভ্যাস বদলালেই বদলাবে লিভারের ভবিষ্যৎ
ফ্যাটি লিভার রোগীদের জন্য বর্তমানে ভূমধ্যসাগরীয় খাদ্যশৈলী সবচেয়ে উপকারী বলে ধরা হয়।
এই ডায়েটে গুরুত্ব দেওয়া হয়—
অলিভ অয়েল ও ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ
প্রচুর সবজি, ফল, ডাল ও গোটা শস্য
লাল মাংস, চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দিনে ২–৩ কাপ কালো কফিও লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

ব্যায়াম ছাড়া সুস্থ লিভার অসম্ভব
নিয়মিত শরীরচর্চা ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে লিভারের চর্বি কমায়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ—
সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি ব্যায়াম
প্রতিদিন ২০–৩০ মিনিট হাঁটা, সাইক্লিং বা সাঁতার
সঙ্গে সপ্তাহে ২–৩ দিন শক্তি প্রশিক্ষণ

ডিজিটাল থেরাপি ও জীবনযাত্রার ভূমিকা
আজকের দিনে মোবাইল অ্যাপ ও পরিধানযোগ্য ডিভাইস খাদ্য ও শারীরিক কার্যকলাপ ট্র্যাক করতে সাহায্য করছে। পাশাপাশি—
প্রতিদিন ৭–৯ ঘণ্টা ঘুম
ধ্যান, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম ও যোগব্যায়াম
মানসিক চাপ কমিয়ে লিভারের স্বাস্থ্যে বড় ভূমিকা রাখে।

কখন দরকার সার্জারি ও সাপ্লিমেন্ট
গুরুতর স্থূলতায় আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যারিয়াট্রিক সার্জারি লিভারের প্রদাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।
তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনও সাপ্লিমেন্ট নয়। প্রয়োজনে ওমেগা-৩, ভিটামিন ই বা প্রোবায়োটিক ব্যবহার করা যেতে পারে।

নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ এখন আর শুধু মদ্যপানের সঙ্গে যুক্ত রোগ নয়। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও বিপাকীয় সমস্যার কারণে এই রোগ দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক জীবনধারা, খাদ্যাভ্যাস ও ডিজিটাল থেরাপির মাধ্যমে ওষুধ ছাড়াই লিভারের অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব।













