অনেকেই ৩৫-এর পর হঠাৎ বুঝতে পারেন, শরীর যেন আগের মতো সাড়া দিচ্ছে না। রাত জেগে কাজ করলে ক্লান্তি কাটতে সময় লাগে, ওজন দ্রুত বাড়ে, এনার্জি কমে যায়। অথচ মেডিক্যাল রিপোর্টে বড় কোনও সমস্যা ধরা পড়ে না। ঠিক এই বয়সকেই ‘ওয়েক-আপ কল’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন গুরুগ্রামের চিকিৎসক ডা. সানি গর্গ।

৩৫ আতঙ্ক নয়, সচেতনতার সময়
ডা. গর্গের কথায়, ৩৫ বছর কোনও হঠাৎ বিপদের বয়স নয়। বরং এই সময়টায় শরীর ও মন স্পষ্ট বার্তা দিতে শুরু করে। বিশ্রাম নিলেও পুরোপুরি সতেজতা ফিরে আসে না, বিপাকক্রিয়া ধীর হয়, ওজন বাড়ে সহজে। অনেক সময় রক্তপরীক্ষা বা অন্যান্য টেস্ট স্বাভাবিক এলেও মানুষ নিজেকে আগের মতো ‘ফিট’ মনে করেন না। চিকিৎসকের মতে, এটিই ইঙ্গিত—এখন থেকেই জীবনযাত্রায় বদল আনার সময়।
ভবিষ্যতের ভিত্তি গড়ার দশক
স্বাস্থ্যই নয়, আর্থিক ও পেশাগত জীবনেও ৩০-এর মাঝামাঝি সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডা. গর্গ প্রশ্ন তুলেছেন—“আয় আছে, কিন্তু সম্পদ কত? এক মাস কাজ বন্ধ হলে আর্থিক কাঠামো টিকে থাকবে?” তাঁর মতে, এই দশকই সম্পদ ও দক্ষতা গঠনের মেরুদণ্ড। কেবল পরিশ্রম নয়, সঠিক দিকনির্দেশে কাজ করাই জরুরি। নিজেকে ‘অপরিবর্তনযোগ্য’ করে তোলার দক্ষতা অর্জন না করলে ভবিষ্যতে দুর্বলতা বাড়তে পারে।

সম্পর্ক ও মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব
৩৫-এর পর সামাজিক পরিসর ছোট হতে থাকে। সময় ও শক্তি বেছে খরচ করতে শেখেন অনেকে। ছোটখাটো সমস্যা বা অপ্রয়োজনীয় নাটক ক্লান্তিকর মনে হয়। এই বয়সে জীবনসঙ্গীর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে—তিনি যেমন সবচেয়ে বড় সমর্থন হতে পারেন, তেমনই মানসিক চাপের কারণও হতে পারেন। তাই মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
তুলনার ফাঁদে না পড়ার পরামর্শ
এই বয়সে অন্যের সাফল্য দেখে অনেকেই নিজেকে প্রশ্ন করেন—“আমি কি পিছিয়ে পড়ছি?” কিন্তু চিকিৎসকের মতে, প্রত্যেকের সময় আলাদা। ৩৫-এ এসে আগের সিদ্ধান্তগুলির ফল দৃশ্যমান হতে শুরু করে—স্বাস্থ্য, অর্থ, অভ্যাস সব ক্ষেত্রেই। এখনই সচেতন হলে ৪০-এর দশক আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল হতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া
ডা. গর্গের বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার ঝড় তোলে। কেউ লিখেছেন, “মনে হচ্ছে বাবা উপদেশ দিচ্ছেন।” আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, “৩৬-এও নিজেকে ২১ মনে হয়, সবটাই মানসিকতা।” অনেকে স্বীকার করেছেন, তাঁর কথার সঙ্গে নিজেদের জীবনের মিল খুঁজে পেয়েছেন।

৩৫ বছর বয়স কোনও আতঙ্কের নয়, বরং ‘সতর্ক হওয়ার সময়’—এমনটাই বলছেন গুরুগ্রামের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. সানি গর্গ। তাঁর মতে, এই বয়সে টেস্ট রিপোর্ট স্বাভাবিক থাকলেও শরীরের শক্তি কমে যেতে পারে, ঘুমে আর আগের মতো সতেজতা ফিরে আসে না। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, অর্থ ও জীবনের লক্ষ্য—সব ক্ষেত্রেই সচেতন হওয়ার বার্তা দিচ্ছেন তিনি।













