ছটপূজার আগে ভাগলপুর জংশনে ট্রেন চলাচলে পরিবর্তন, তিন মাস ধরে আটকে লিফট প্রকল্প

ছটপূজার আগে ভাগলপুর জংশনের ২ ও ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেন পরিচালনার ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছে। ফুটওভার ব্রিজের প্রস্থ ১.৩ মিটার থেকে বাড়িয়ে ২.৩ মিটার করা হয়েছে। অন্যদিকে, লিফট বসানোর প্রকল্প প্রায় তিন মাস ধরে আটকে রয়েছে।
ছটপূজার আগে ভাগলপুর জংশনে ট্রেন চলাচলে পরিবর্তন, তিন মাস ধরে আটকে লিফট প্রকল্প
Photo Credit / Attribution: Google

ছটপূজার আগে ভাগলপুর রেলওয়ে জংশনে ট্রেন চলাচল ও যাত্রী পরিষেবার ক্ষেত্রে একাধিক পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছে। স্টেশনের ২ ও ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে একই সময়ে ট্রেন দাঁড়ানোর ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে, যাত্রীদের সুবিধার্থে লিফট বসানোর প্রকল্প প্রায় তিন মাস ধরে আটকে রয়েছে। উৎসবের সময় যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকায় ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের যাতায়াত এবং স্টেশনের পরিকাঠামোগত পরিষেবা পরিচালনা রেলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পূর্ব রেলের মালদা ডিভিশনের অধীন ভাগলপুর রেলওয়ে জংশন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। প্রতিদিন এখান থেকে বিপুল সংখ্যক যাত্রী বিভিন্ন শহরের উদ্দেশে যাতায়াত করেন। সাধারণ দিনেও স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় থাকে। তবে দীপাবলি ও ছটপূজার সময় এই সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। অন্য রাজ্যে কর্মরত বহু মানুষ উৎসব উপলক্ষে বাড়ি ফেরেন। উৎসব শেষ হলে তাঁদের একটি বড় অংশ আবার কর্মস্থলে ফিরে যান। এর ফলে প্ল্যাটফর্ম, ফুটওভার ব্রিজ, সিঁড়ি এবং স্টেশনের প্রবেশপথগুলিতে চাপ বাড়ে।

এই পরিস্থিতিতে ২ ও ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেন পরিচালনার প্রস্তাবিত পরিবর্তন যাত্রীদের যাতায়াতেও প্রভাব ফেলতে পারে। দুই প্ল্যাটফর্মে একই সময়ে ট্রেন দাঁড়ানোর ব্যবস্থা কার্যকর না থাকলে যাত্রীদের নির্ধারিত প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনের সময় সম্পর্কে আগাম তথ্য জেনে নিতে হবে। ট্রেনের আগমন, প্রস্থান এবং প্ল্যাটফর্ম বরাদ্দের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হবে, যাতে যাত্রীদের অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি এড়ানো যায়।

উৎসবের সময় বহু যাত্রী বড় ব্যাগ ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে যাতায়াত করেন। ফলে প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তন বা ট্রেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন হলে তাঁদের অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। তাই স্টেশনে পৌঁছনোর আগে ট্রেনের সর্বশেষ অবস্থান এবং প্ল্যাটফর্ম সংক্রান্ত তথ্য জেনে নেওয়া জরুরি।

যাত্রীদের চলাচল সহজ করতে ভাগলপুর জংশনে ফুটওভার ব্রিজের প্রস্থ বাড়ানোর কাজও করা হয়েছে। ২ ও ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সংযোগকারী লোহিয়া পুল প্রান্তের ফুটওভার ব্রিজটির প্রস্থ আগে ছিল ১.৩ মিটার। তা বাড়িয়ে ২.৩ মিটার করা হয়েছে।

আগে কোনও গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন স্টেশনে পৌঁছলে একসঙ্গে বহু যাত্রী ফুটওভার ব্রিজে উঠে পড়তেন। এর ফলে সেতুতে ভিড় এবং ঠেলাঠেলির পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকত। প্রস্থ বাড়ানোর ফলে যাত্রীদের চলাচলের জন্য অতিরিক্ত জায়গা পাওয়া যাবে। ছটপূজার মতো বড় উৎসবের সময়, যখন স্টেশনে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি যাত্রীর সমাগম হয়, তখন এই পরিকাঠামো বিশেষভাবে কাজে আসতে পারে।

স্টেশনে যাত্রী পরিষেবা সম্প্রসারণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা হল লিফট বসানো। ২ ও ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করতে ফুটওভার ব্রিজের কাছে লিফট বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এসক্যালেটরের কাছেও অতিরিক্ত লিফট তৈরির কাজ প্রস্তাবিত হয়েছে।

এই পরিষেবাগুলির মাধ্যমে প্রবীণ নাগরিক, বিশেষভাবে সক্ষম যাত্রী, অসুস্থ ব্যক্তি, মহিলা এবং ভারী লাগেজ বহনকারী যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করার লক্ষ্য রয়েছে। লিফট চালু হলে এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে যাওয়ার জন্য সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামার প্রয়োজন কমতে পারে। তবে প্রকল্পটি প্রায় তিন মাস ধরে আটকে থাকায় যাত্রীরা কবে থেকে এই পরিষেবার সুবিধা পাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ভাগলপুর জংশনে সাধারণ দিনে প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ হাজার যাত্রীর যাতায়াত হয়। উৎসবের সময় এই সংখ্যা আরও বাড়ে। ছটপূজার সময় যাত্রীদের ট্রেনে ওঠা, প্ল্যাটফর্মে পৌঁছনো এবং স্টেশন চত্বরে অপেক্ষা করার জন্য অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে প্ল্যাটফর্মে ট্রেন পরিচালনার ব্যবস্থা, ফুটওভার ব্রিজের প্রস্থ এবং লিফটের মতো পরিষেবাগুলির গুরুত্ব বাড়বে। স্টেশনের বিভিন্ন অংশে যাত্রীদের চাপ নিয়ন্ত্রণ করা এবং কোনও একটি প্ল্যাটফর্মে অতিরিক্ত ভিড় জমতে না দেওয়া রেলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।

ভাগলপুর জংশনে চলা উন্নয়নমূলক কাজগুলির লক্ষ্য শুধু উৎসবের সময় যাত্রীদের সুবিধা দেওয়া নয়, ভবিষ্যতে যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্টেশনের পরিকাঠামো উন্নত করাও। ২ ও ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সম্প্রসারণ, ফুটওভার ব্রিজের সিঁড়ির প্রস্থ বৃদ্ধি এবং লিফট বসানোর মতো পরিকল্পনার মাধ্যমে যাত্রীদের চলাচল আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া স্টেশনের ইয়ার্ড এবং ট্রেন পরিচালন সংক্রান্ত ব্যবস্থাকে আধুনিক করার পরিকল্পনাও তৈরি করা হয়েছে। এই কাজগুলি সম্পন্ন হলে দূরপাল্লার ট্রেন পরিচালনা এবং প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণে সহায়তা মিলতে পারে।

ছটপূজার আগে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলির কাজ শেষ করা রেলের কাছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। উৎসবের সময় যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুবিধা বজায় রাখতে নির্মাণকাজ এবং ট্রেন পরিচালনার মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন হবে।

লিফট বসানোর কাজ সময়মতো শেষ না হলে প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষম যাত্রীদের সিঁড়ি ব্যবহার করতে হতে পারে। অন্যদিকে, প্ল্যাটফর্মে ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থায় পরিবর্তন হলে যাত্রীদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া জরুরি হবে। প্ল্যাটফর্ম নম্বর এবং ট্রেনের আগমন ও প্রস্থানের তথ্য সময়মতো জানানো হলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো সম্ভব হতে পারে।

ছটপূজার আগে ভাগলপুর রেলওয়ে জংশনে ট্রেন পরিচালনার পরিবর্তন, ফুটওভার ব্রিজের প্রস্থ বৃদ্ধি এবং লিফট প্রকল্পের অগ্রগতি যাত্রী পরিষেবা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে, প্রায় তিন মাস ধরে আটকে থাকা লিফট প্রকল্পের কাজ কবে শেষ হবে এবং উৎসবের সময় বাড়তি যাত্রী সামলাতে রেল কী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

Leave a comment