বিহারে বিমান পরিষেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা, পতাহী সোনপুর সহরসা ও বাল্মীকিনগরে নজর

বিহারে পতাহী, সোনপুর, সহরসা ও বাল্মীকিনগরে বিমান পরিষেবা সংক্রান্ত পরিকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা চলছে। পাশাপাশি, আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ, বিমানবন্দর উন্নয়ন এবং বিনিয়োগে উৎসাহ দিতে পৃথক অ্যাভিয়েশন পলিসি তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বিহারে বিমান পরিষেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা, পতাহী সোনপুর সহরসা ও বাল্মীকিনগরে নজর
Photo Credit / Attribution: Google

বিহারে বিমান পরিষেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ঘিরে প্রস্তুতি জোরদার হচ্ছে। পতাহী, সোনপুর, সহরসা এবং বাল্মীকিনগরে বিমান পরিষেবা সংক্রান্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি, রাজ্যে বিমান পরিষেবার উন্নয়নে গতি আনতে পৃথক অ্যাভিয়েশন পলিসি তৈরির প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। এই নীতির মাধ্যমে আকাশপথে যোগাযোগ বৃদ্ধি, আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলির উন্নয়ন এবং বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়ার বিষয়গুলিতে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। পরিকল্পনার লক্ষ্য বড় শহরের পাশাপাশি ছোট শহর ও পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে বিমান পরিষেবার নাগাল বাড়ানো, যাতে যাতায়াতের আরও বিকল্প পান সাধারণ মানুষ।

মুজফ্ফরপুরের পতাহী বিমানবন্দর উন্নয়নের দাবি দীর্ঘদিনের। সেখানে বিমান পরিষেবা সংক্রান্ত পরিকাঠামো সম্প্রসারিত হলে মুজফ্ফরপুর-সহ আশপাশের জেলাগুলির বাসিন্দারা উপকৃত হতে পারেন। বর্তমানে এই অঞ্চলে বিমান পরিষেবা চালু করা এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় জমি, রানওয়ে, টার্মিনাল এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত সুবিধা তৈরি করা গেলে ভবিষ্যতে সেখান থেকে বিমান পরিষেবা চালুর পথ সহজ হতে পারে। এর ফলে উত্তর বিহারের বাসিন্দাদের বিমানযাত্রার জন্য পটনা বা অন্য শহরের বিমানবন্দরের উপর নির্ভরতা কমানোর বিকল্প তৈরি হতে পারে। তবে পতাহী থেকে নিয়মিত বিমান চলাচল কবে শুরু হবে, তা সংশ্লিষ্ট দফতরের অনুমোদন এবং উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতির উপর নির্ভর করবে।

বিহারের পরিবহণ পরিকাঠামোর উন্নয়নের ক্ষেত্রে সোনপুরে বিমান পরিষেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান এবং পর্যটন কার্যকলাপের জন্য পরিচিত সোনপুরে আকাশপথে যোগাযোগ গড়ে উঠলে আশপাশের এলাকাগুলির যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হতে পারে। তবে সেখানে বিমান পরিষেবা সংক্রান্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলার আগে জমির প্রাপ্যতা, প্রযুক্তিগত সম্ভাব্যতা, নিরাপত্তার মানদণ্ড এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। পরিকল্পনার চূড়ান্ত রূপরেখা এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা সম্পর্কে সরকারি তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পরই সোনপুরে কী ধরনের বিমান পরিষেবা সংক্রান্ত পরিকাঠামো তৈরি করা হবে, তা স্পষ্ট হবে।

সহরসায় বিমান পরিষেবা সংক্রান্ত পরিকাঠামো সম্প্রসারিত হলে কোসি অঞ্চলের বাসিন্দারা বিশেষভাবে উপকৃত হতে পারেন। সহরসা এবং আশপাশের জেলাগুলি থেকে বহু মানুষ শিক্ষা, ব্যবসা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে অন্য শহরে যাতায়াত করেন। উন্নত বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রায় সময় কমতে পারে। পাশাপাশি, ওই অঞ্চলে ব্যবসায়িক কার্যকলাপ এবং বিনিয়োগের সুযোগও বাড়তে পারে।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বিমানপট্টির বর্তমান অবস্থা, রানওয়ের সক্ষমতা, যাত্রী পরিষেবা এবং বিমান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো মূল্যায়ন করতে হবে। নিয়মিত বিমান পরিষেবা চালুর ক্ষেত্রে বিমান সংস্থাগুলির অংশগ্রহণ এবং পর্যাপ্ত যাত্রী চাহিদাও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

পশ্চিম চম্পারণে অবস্থিত বাল্মীকিনগর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বনাঞ্চল এবং পর্যটনকেন্দ্রের জন্য পরিচিত। সেখানে উন্নত বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে অন্য রাজ্য থেকে আসা পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হতে পারে। এর ফলে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসা, হোটেল, পরিবহণ এবং অন্যান্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে পর্যটনকেন্দ্রিক বিমান পরিষেবা সংক্রান্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পরিবেশগত বিধিনিষেধ, নিরাপত্তার মানদণ্ড এবং স্থানীয় পরিকাঠামোর বিষয়গুলি বিবেচনায় রাখতে হবে। পরিষেবা চালু হওয়ার পর যাত্রী চাহিদা এবং বিমান পরিচালনার অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বিহারের জন্য পৃথক অ্যাভিয়েশন পলিসি তৈরির পরিকল্পনার মাধ্যমে রাজ্যের বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রের উন্নয়নের জন্য একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করা যেতে পারে। এই নীতিতে বিমানবন্দর উন্নয়ন, আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ বৃদ্ধি, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং বিমান সংস্থাগুলিকে উৎসাহ দেওয়ার বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

এ ছাড়া ছোট শহরগুলিকে বিমান যোগাযোগের নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা, বিদ্যমান বিমানপট্টিগুলির ব্যবহার, প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর মতো বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে নীতির চূড়ান্ত রূপরেখা প্রকাশিত হওয়ার পরই এর আওতায় কী কী সুবিধা দেওয়া হবে, বিনিয়োগ সংক্রান্ত কী বিধান থাকবে এবং কোন প্রকল্পগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

বিহারে বিমান পরিষেবা সম্প্রসারিত হলে সড়ক ও রেলপথের পাশাপাশি যাতায়াতের নতুন বিকল্প তৈরি হতে পারে। বিশেষত, যেসব অঞ্চলের বাসিন্দাদের বড় বিমানবন্দরে পৌঁছতে বেশি সময় লাগে, তাঁরা এর ফলে উপকৃত হতে পারেন। আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ বাড়লে ব্যবসায়ী, পড়ুয়া, রোগী এবং পর্যটকদের অন্য শহরে যাতায়াত সহজ হতে পারে। পাশাপাশি, স্থানীয় অর্থনৈতিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে।

তবে এই সুবিধাগুলি বাস্তবায়নের জন্য শুধু বিমানবন্দর তৈরির ঘোষণা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজনীয় জমি, রানওয়ে, টার্মিনাল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিমান পরিবহণ সংক্রান্ত অনুমোদন এবং নিয়মিত বিমান চলাচল নিশ্চিত করাও জরুরি।

পতাহী, সোনপুর, সহরসা এবং বাল্মীকিনগরে বিমান পরিষেবা সংক্রান্ত পরিকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা এবং বিহারের পৃথক অ্যাভিয়েশন পলিসি রাজ্যের পরিবহণ ক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং পর্যাপ্ত সম্পদের ভিত্তিতে পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের একাধিক অঞ্চলে বিমান যোগাযোগ উন্নত করার সুযোগ তৈরি হবে।

তবে এই প্রকল্পগুলির বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা, নির্মাণের সময়সীমা এবং বিমান পরিষেবা শুরুর তারিখ সম্পর্কে সরকারি তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে, কোন কোন স্থানে কী ধরনের বিমান পরিষেবা সংক্রান্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

Leave a comment