বিহার বিধান পরিষদের আটটি আসনে নির্বাচনের ভোটগণনা ২৭ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে। চারটি স্নাতক নির্বাচনী ক্ষেত্র এবং চারটি শিক্ষক নির্বাচনী ক্ষেত্রের এই নির্বাচনের ফলাফলের দিকে নজর রয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের। নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের পাশাপাশি নির্দল ও অন্যান্য প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ভোটগণনা শুরুর মধ্যেই পাটনার বানকিপুরের গণনাকেন্দ্রে CCTV ক্যামেরার ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক সামনে এসেছে। একদিকে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটগণনা চলছে, অন্যদিকে নজরদারি ব্যবস্থার যথাযথতা নিয়ে ওঠা প্রশ্ন প্রশাসন ও নির্বাচনী আধিকারিকদের ভূমিকার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
বিহার বিধান পরিষদের এই আটটি আসনে গত ২৩ অক্টোবর ভোটগ্রহণ হয়েছিল। নির্বাচনে স্নাতক ও শিক্ষক নির্বাচনী ক্ষেত্রের ভোটাররা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোটগ্রহণের পর থেকেই প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকরা ফলাফলের অপেক্ষায় ছিলেন। ভোটগণনা শুরু হওয়ায় এবার প্রতিটি আসনে কোন প্রার্থী কতটা সমর্থন পেয়েছেন, তা নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
স্নাতক নির্বাচনী ক্ষেত্রগুলির মধ্যে রয়েছে পাটনা, দরভাঙ্গা, তিরহুত ও কোসি। অন্যদিকে শিক্ষক নির্বাচনী ক্ষেত্রগুলি হল পাটনা, দরভাঙ্গা, তিরহুত ও সারন। আটটি আসনেই একাধিক প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। ভোটগণনা শেষ হওয়া এবং আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার পরেই প্রতিটি আসনে জয়ী ও পরাজিত প্রার্থীদের নাম স্পষ্ট হবে।
ভোটগণনার সময় পাটনার বানকিপুরে অবস্থিত কেন্দ্রে CCTV ক্যামেরার ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। পাটনা শিক্ষক নির্বাচনী ক্ষেত্রের কংগ্রেস প্রার্থী ড. সঞ্জয় কুমার গণনাকেন্দ্রে CCTV ক্যামেরা না থাকার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানান এবং ধরনায় বসেন। তাঁর বক্তব্য, ভোটগণনার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় যথাযথ নজরদারির ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, যাতে গোটা প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখা যায় এবং কোনও ধরনের সংশয়ের অবকাশ না থাকে।
ভোটগণনার স্বচ্ছতা নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ, এই প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়। সেই কারণে গণনাকেন্দ্রে ক্যামেরার উপস্থিতি ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে ওঠা প্রশ্ন পাটনার কেন্দ্রটিকে আলোচনার মধ্যে নিয়ে এসেছে।
জন সুরাজের প্রার্থী অনুজ সিংও গণনাকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। CCTV ক্যামেরা সংক্রান্ত বিতর্কের জেরে গণনাকেন্দ্রে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। প্রার্থীদের আপত্তির মধ্যে গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও নজরদারির ব্যবস্থা কীভাবে করা হয়েছে, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা নির্বাচনী আধিকারিকদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কোনও ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রার্থী বা তাঁদের প্রতিনিধিরা আপত্তি জানালে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ প্রত্যাশিত। তবে CCTV ক্যামেরা নিয়ে ওঠা অভিযোগ এবং বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও তদন্তের তথ্যের অপেক্ষা করা প্রয়োজন।
বিহার বিধান পরিষদের আটটি আসনে মোট ১৫০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে স্নাতক নির্বাচনী ক্ষেত্রের প্রার্থী ৯০ জন এবং শিক্ষক নির্বাচনী ক্ষেত্রের প্রার্থী ৬০ জন। আটটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে ভোটগণনার প্রতিটি পর্যায়ের দিকে নজর রাখছেন প্রার্থীরা।
এই নির্বাচনে একাধিক বর্তমান বিধান পরিষদ সদস্যের সামনে পুনরায় জয়ী হওয়ার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের পাশাপাশি অন্যান্য প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পরেই স্পষ্ট হবে, পরবর্তী মেয়াদে বিধান পরিষদে কোন প্রার্থীরা প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবেন।
ভোটগ্রহণের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চারটি শিক্ষক নির্বাচনী ক্ষেত্রে মোট ৮২.৮৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। অন্যদিকে চারটি স্নাতক নির্বাচনী ক্ষেত্রে ভোটদানের হার ছিল ৫৩.৪২ শতাংশ।
শিক্ষক নির্বাচনী ক্ষেত্রগুলির মধ্যে সারন আসনে সর্বাধিক ৮৯.০৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। অন্যদিকে স্নাতক নির্বাচনী ক্ষেত্রগুলির মধ্যে তিরহুত আসনে সর্বনিম্ন ৪৮.৫১ শতাংশ ভোটদানের হার নথিভুক্ত হয়েছে। এই পরিসংখ্যান বিভিন্ন নির্বাচনী ক্ষেত্রে ভোটারদের অংশগ্রহণের হারের পার্থক্য তুলে ধরেছে। তবে শুধু ভোটদানের হার থেকে কোনও প্রার্থীর জয় বা পরাজয় নির্ধারণ করা যায় না। ভোটগণনা সম্পূর্ণ হওয়া এবং আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার পরেই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।
ভোটগণনা শুরুর আগেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির তরফে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। ২৬ অক্টোবর রাষ্ট্রীয় জনতা দল বা আরজেডির নেতারা বিহারের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে গিয়ে ভোটগণনার সময় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
দলের তরফে ভোটগণনার পদ্ধতি, বাতিল ব্যালটের তথ্য এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের রেকর্ড স্পষ্ট রাখার বিষয়গুলি উত্থাপন করা হয়। দলের প্রতিনিধিরা দাবি করেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রার্থীদের অনুমোদিত এজেন্টদের ভোটগণনা পর্যবেক্ষণ এবং সন্দেহজনক ব্যালট নিয়ে আপত্তি জানানোর যথাযথ সুযোগ দিতে হবে।
এই দাবিগুলির মধ্যে পাটনার গণনাকেন্দ্রে CCTV ব্যবস্থা নিয়ে ওঠা বিতর্কও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নজরদারি ও নিরপেক্ষতা সংক্রান্ত আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে।
বিহার বিধান পরিষদের এই আসনগুলির নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ স্নাতক ও শিক্ষক নির্বাচনী ক্ষেত্রের ভোটাররা সাধারণ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটারদের থেকে পৃথকভাবে নির্ধারিত ভোটার তালিকার ভিত্তিতে ভোট দেন।
স্নাতক নির্বাচনী ক্ষেত্রে যোগ্য ও নিবন্ধিত স্নাতক ভোটাররা তাঁদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। শিক্ষক নির্বাচনী ক্ষেত্রে নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত পূরণকারী নিবন্ধিত শিক্ষকরা ভোট দেন। এই ব্যবস্থায় নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বিধান পরিষদে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী ক্ষেত্রের প্রতিনিধিত্ব করেন। সেই কারণে এই আসনগুলির ফলাফলের দিকে শিক্ষা জগতের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন মহল, শিক্ষক সংগঠন, স্নাতক ভোটার এবং রাজনৈতিক দলগুলির বিশেষ নজর থাকে।
এই নির্বাচনে ভোটগণনার ক্ষেত্রে পছন্দের ক্রমভিত্তিক ভোটদান পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এই ব্যবস্থায় ভোটাররা পছন্দ অনুযায়ী প্রার্থীদের নামের পাশে অগ্রাধিকারের ক্রম চিহ্নিত করেন। প্রথমে প্রথম পছন্দের ভোট গণনা করা হয়।
কোনও প্রার্থী নির্ধারিত জয়ের কোটা অর্জন করলে তাঁকে নির্বাচিত ঘোষণা করা যেতে পারে। কোনও প্রার্থী প্রয়োজনীয় কোটা অর্জন করতে না পারলে প্রযোজ্য নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী সর্বনিম্ন ভোট পাওয়া প্রার্থীদের বাদ দেওয়া এবং অবশিষ্ট ব্যালটে চিহ্নিত পরবর্তী পছন্দের ভিত্তিতে ভোট স্থানান্তরের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতে পারে। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী ফলাফল নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলতে পারে। সেই কারণে পছন্দের ক্রমভিত্তিক ভোটগণনায় সরাসরি ভোটগণনার তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে।
পাটনার গণনাকেন্দ্রে CCTV ক্যামেরা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের মধ্যে প্রার্থী ও তাঁদের প্রতিনিধিরা নির্বাচনী আধিকারিকদের পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন। এই ধরনের বিতর্কের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ যথাযথভাবে নথিভুক্ত করা, তার তদন্ত এবং নিয়ম অনুযায়ী প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা, ব্যালটের উপর নজরদারি, অনুমোদিত এজেন্টদের উপস্থিতি এবং ভোটগণনার রেকর্ড যথাযথভাবে সংরক্ষণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোনও অভিযোগের চূড়ান্ত অবস্থা জানতে নির্বাচনী আধিকারিকদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এবং তদন্ত-সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো প্রয়োজন।
বিহার বিধান পরিষদের আটটি আসনের নির্বাচনে মোট ১৫০ জন প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং বিভিন্ন নির্বাচনী ক্ষেত্রে পৃথক প্রতিযোগিতার কারণে ফলাফল নিয়ে অপেক্ষা রয়েছে। পাটনা, দরভাঙ্গা, তিরহুত ও কোসি স্নাতক নির্বাচনী ক্ষেত্রের পাশাপাশি পাটনা, দরভাঙ্গা, তিরহুত ও সারন শিক্ষক নির্বাচনী ক্ষেত্রের ফলাফল পৃথকভাবে ঘোষণা করা হবে।
ভোটগণনা সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই স্পষ্ট হবে কোন প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন এবং কারা পরাজিত হয়েছেন। আপাতত ফলাফলের পাশাপাশি পাটনার গণনাকেন্দ্রে CCTV ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক এবং ভোটগণনার স্বচ্ছতা সংক্রান্ত প্রশ্নও আলোচনায় রয়েছে।












