সুস্থ শরীরের ভিত গড়ে ওঠে মজবুত হাড়ের উপর। অথচ আধুনিক জীবনে খাদ্যাভ্যাসের বদলের কারণে বহু মানুষই ভুগছেন ক্যালসিয়ামের ঘাটতিতে। এর ফল—হাড়ের ব্যথা, দুর্বলতা, এমনকি অল্প আঘাতেই ফ্র্যাকচার। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত কিছু নির্দিষ্ট খাবার খেলেই স্বাভাবিকভাবে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
কেন ক্যালসিয়াম এত জরুরি?
ক্যালসিয়াম শুধু হাড় ও দাঁত মজবুত করেই না, পেশীর কার্যকারিতা, স্নায়ুর সিগন্যাল আদান-প্রদান এবং হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। দীর্ঘদিন ক্যালসিয়ামের অভাব থাকলে অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার রাখুন রোজের ডায়েটে
হাড় মজবুত করতে দুধ, দই, পনিরের মতো দুগ্ধজাত খাবার অত্যন্ত কার্যকর। পাশাপাশি পালং শাক, সরিষা পাতা, ব্রোকোলির মতো সবুজ শাকসবজিও ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। উদ্ভিজ্জ বিকল্প হিসেবে তিল, বাদাম, সয়া দুধ রাখতেই পারেন খাদ্যতালিকায়।
ভিটামিন ডি ছাড়া ক্যালসিয়াম অকার্যকর
শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণের জন্য ভিটামিন ডি অপরিহার্য। প্রতিদিন কিছুটা রোদে থাকা যেমন দরকার, তেমনই ডিমের কুসুম, সামুদ্রিক মাছ, ফর্টিফায়েড দুধ ও সিরিয়াল খেলে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি পূরণ হয়।
প্রোটিনেও হাড় পায় শক্তি
অনেকে জানেন না, হাড়ের গঠন মজবুত রাখতে প্রোটিনেরও বড় ভূমিকা আছে। মাছ, ডিম, ডাল, ছোলা, রাজমা ও দুধজাত খাবার হাড়ের টিস্যু শক্ত করতে সাহায্য করে।
বাদাম ও বীজ—ছোট খাবারে বড় উপকার
তিল, চিয়া বীজ, কাজু, কাঠবাদামের মতো বাদাম ও বীজে থাকে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম। নিয়মিত অল্প পরিমাণে এগুলি খেলে হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে।
ব্যায়াম ছাড়া হাড় মজবুত হয় না
শুধু খাবার নয়, শরীরচর্চাও সমান জরুরি। নিয়মিত হাঁটা, সিঁড়ি ভাঙা, হালকা ওজন তোলা বা যোগব্যায়াম করলে হাড় আরও শক্তিশালী হয়।
হাড়ের দুর্বলতা এখন ঘরে ঘরে সাধারণ সমস্যা। ক্যালসিয়ামের অভাবে হাড় ভঙ্গুর হয়ে পড়ে, বাড়ে ফ্র্যাকচারের ঝুঁকি। তবে দামি ওষুধ নয়, রোজের খাবারেই রয়েছে ক্যালসিয়ামের ভাণ্ডার। কোন খাবার হাড়ের জন্য সবচেয়ে উপকারী, জানুন এই প্রতিবেদনে।













