আধুনিক জীবনের অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসে পেটের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। বদহজম, গ্যাস, অম্বলের মতো সমস্যায় নাজেহাল বহু মানুষ। অথচ সমাধান লুকিয়ে রয়েছে রান্নাঘরের একেবারে কাছেই—থানকুনি পাতায়। আয়ুর্বেদ ও আধুনিক চিকিৎসা—দু’দিক থেকেই এই পাতার গুণাগুণ স্বীকৃত।
থানকুনি পাতা কেন এত উপকারী?
থানকুনি পাতা বহু প্রাচীন ভেষজ উদ্ভিদ। এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও মিনারেল, যা শরীরের ভিতর থেকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে হজমজনিত সমস্যায় এই পাতা অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করেন চিকিৎসকেরা।
পেটের রোগে অব্যর্থ প্রাকৃতিক দাওয়াই
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত থানকুনি পাতা বা এর রস খেলে হজমশক্তি বাড়ে। গ্যাস, অম্বল, কৃমি ও পেট ফাঁপার মতো সমস্যা কমে। সকালে খালি পেটে কয়েকটি পরিষ্কার থানকুনি পাতা খেলে পেট অনেকটাই হালকা থাকে।
ত্বকের যত্নেও থানকুনি
শুধু পেট নয়, ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখতেও থানকুনি পাতার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এই পাতায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের টক্সিন বের করে দেয়। ফলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে, কমে ব্রণ ও দাগছোপের সমস্যা।
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে
চিকিৎসকদের মতে, থানকুনি পাতায় থাকা পেন্টাসাইক্লিক ট্রিটারপিনস নামের উপাদান মস্তিষ্কের কোষের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। নিয়মিত এই পাতা খেলে মনঃসংযোগ ও স্মৃতিশক্তি উন্নত হতে পারে।
ডিমেনশিয়া ও অ্যালঝাইমার্সের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক?
বিশেষজ্ঞদের দাবি, দীর্ঘদিন থানকুনি পাতার রস খেলে বয়সজনিত স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব। বিশেষ করে প্রবীণদের ক্ষেত্রে এটি মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
কীভাবে খাবেন থানকুনি পাতা?
সকালে খালি পেটে ৩–৪টি পাতা ভাল করে ধুয়ে খাওয়া যেতে পারে। চাইলে রস করে বা হালকা রান্না করেও খাওয়া যায়। তবে অতিরিক্ত নয়—নিয়ম মেনে খাওয়াই সবচেয়ে উপকারী।
পেটের গোলমাল থেকে ত্বকের সমস্যা—একাধিক অসুখে প্রাকৃতিক দাওয়াই হিসেবে পরিচিত থানকুনি পাতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত এই পাতা খেলে হজমশক্তি উন্নত হয়, ত্বক উজ্জ্বল থাকে এবং বয়সজনিত স্মৃতিভ্রংশের আশঙ্কাও কমতে পারে।













