প্রচণ্ড গরমে সবুজ ঘাসের অভাব, কমে যাওয়া খাবারের রুচি এবং শরীরের দুর্বলতার কারণে গরুর দুধ উৎপাদন অনেক সময়ই কমে যায়। এতে সমস্যায় পড়েন ছোট ও মাঝারি ডেয়ারি ব্যবসায়ীরা। তবে সামান্য খাদ্য পরিবর্তনেই মিলতে পারে সমাধান। উত্তরপ্রদেশের বাহরাইচের পশুপালক রানা চেতন সিংয়ের দাবি, নেপিয়ার ঘাসের সঙ্গে কয়েকটি ঘরোয়া উপাদান মিশিয়ে খাওয়ালে গরুর স্বাস্থ্য যেমন ভাল থাকবে, তেমনই বাড়বে দুধের উৎপাদনও।
![]()
নেপিয়ার ঘাসের সঙ্গে কী কী মেশাবেন?
গরমকালে অনেক পশুপালকই গবাদি পশুকে নেপিয়ার ঘাস খাওয়ান। কিন্তু শুধুমাত্র এই ঘাসে সবসময় পর্যাপ্ত পুষ্টি মেলে না। তাই বিশেষ খাদ্য মিশ্রণ তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন ওই পশুপালক।
১০০ কেজি পশুখাদ্য তৈরির জন্য লাগবে—
দেড় থেকে ২ কেজি মিনারেল মিক্সচার
১ কেজি শুকনো আদা বা সঁট
২ কেজি গুড়
২৫-৩০ কেজি চালের কুঁড়ো
সমপরিমাণ ভুট্টা ও ডালের ভুসি
এই উপাদানগুলি পশুর শরীরে প্রয়োজনীয় খনিজ, প্রোটিন ও শক্তির ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে বলে দাবি।
![]()
কীভাবে খাওয়াবেন এই বিশেষ খাবার?
প্রথমে টাটকা নেপিয়ার ঘাস ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিতে হবে। এরপর আগে থেকে তৈরি দানাদার খাদ্য মিশ্রণটি ভালভাবে ঘাসের সঙ্গে মিশিয়ে গবাদি পশুকে খাওয়াতে হবে।পশুপালকদের মতে, এই পদ্ধতিতে খাবার দিলে গরু সহজে খায় এবং খাবারের অপচয়ও কম হয়। ফলে শরীরে দ্রুত পুষ্টি পৌঁছায় এবং দুধ উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
শুধু খাবার নয়, পরিচ্ছন্নতাও জরুরি
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাল খাদ্যের পাশাপাশি গোয়ালঘরের পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিদিন গোয়ালঘর পরিষ্কার রাখা
নিয়মিত গরুকে স্নান করানো
পরিষ্কার পানীয় জল দেওয়া
সময়মতো পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
এই অভ্যাসগুলি গবাদি পশুকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
![]()
বর্ষার আগে বাড়ান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
বর্ষার সময় গবাদি পশুর মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। বিশেষ করে জল জমা এলাকায় নানা রোগ দ্রুত ছড়ায়। তাই গরমের সময় থেকেই পুষ্টিকর খাবার খাইয়ে পশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।রানা চেতন সিংয়ের মতে, এই ঘরোয়া খাদ্য তালিকা নিয়মিত মেনে চললে গরু থাকবে বেশি সক্রিয় ও সুস্থ, আর ডেয়ারি ব্যবসায় মিলবে বাড়তি লাভ।
![]()
গ্রীষ্মকালে গবাদি পশুর দুধ উৎপাদন কমে যাওয়া ডেয়ারি ব্যবসায়ীদের বড় সমস্যা। উত্তরপ্রদেশের এক সফল পশুপালকের দাবি, নেপিয়ার ঘাসের সঙ্গে পাঁচটি বিশেষ উপাদান মিশিয়ে খাওয়ালে বাড়তে পারে দুধের পরিমাণ। একইসঙ্গে বাড়বে পশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও।













