ধনতেরাস মানেই সোনা-রুপো কেনা, ঘর সাজানো এবং ধনদেবীর আরাধনা। তবে এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সুস্বাস্থ্য কামনার ঐতিহ্যও। ভগবান ধন্বন্তরিকে আয়ুর্বেদ ও চিকিৎসার দেবতা হিসেবে মানা হয়। সেই কারণেই ধনতেরাসে তাঁর পুজোর বিশেষ প্রচলন রয়েছে। এ বছর ধনতেরাস উপলক্ষে গিলয়ের রস পান করার পরামর্শ দিয়েছেন এক জ্যোতিষী। তাঁর মতে, এই রস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু এই দাবির ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি।
কেন পালন করা হয় ধনতেরাস?
ধনতেরাসের আর এক নাম ধনত্রয়োদশী বা ধন্বন্তরি-ত্রয়োদশী। কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিন থেকেই দীপাবলি উৎসবের সূচনা হয়।বিশিষ্ট পুরোহিত ও পণ্ডিত গিরিশ পাণ্ডার বক্তব্য অনুযায়ী, ধনতেরাসকে ঘিরে একটি পৌরাণিক কাহিনি রয়েছে। কথিত আছে, দুর্বাসা মুনির অভিশাপে একসময় স্বর্গ থেকে লক্ষ্মী দেবী অন্তর্হিত হন। পরে দেবতা ও অসুরদের সমুদ্র মন্থনের মাধ্যমে দেবী লক্ষ্মী আবার ফিরে আসেন। সেই হারানো সমৃদ্ধিকে ফিরে পাওয়ার স্মরণেই ধনতেরাসে লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয় বলে বিশ্বাস।
ধন্বন্তরির পুজোয় কেন গুরুত্ব দেওয়া হয়?
ধনতেরাসে দেবী লক্ষ্মীর পাশাপাশি ভগবান ধন্বন্তরির পুজোও করা হয়। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসে ধন্বন্তরিকে আয়ুর্বেদ ও চিকিৎসাবিদ্যার দেবতা হিসেবে মানা হয়। তাই এই দিনে তাঁর আরাধনার মাধ্যমে সুস্বাস্থ্য ও রোগমুক্ত জীবনের প্রার্থনা করেন অনেকে।
পুজোর পর গিলয়ের রস পান করার পরামর্শ
প্রতিবেদনে উল্লেখিত জ্যোতিষী আচার্যের পরামর্শ অনুযায়ী, ধন্বন্তরির পুজো শেষ করে গিলয়ের রস অথবা ক্বাথ পান করার কথা বলা হয়েছে। প্রচলিত ধারণা, গিলয় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।তবে মনে রাখতে হবে, কোনও নির্দিষ্ট দিনে গিলয়ের রস পান করলেই সারা বছর শরীর সুস্থ থাকবে—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। গিলয় বা গুডুচি ভেষজ উপাদান হলেও এর ব্যবহার সবার জন্য নিরাপদ নয়। বিশেষ করে লিভারের সমস্যা, অটোইমিউন রোগ বা নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি খাওয়া উচিত নয়। গিলয় ব্যবহারের সঙ্গে লিভারের ক্ষতির কিছু ঘটনার যোগসূত্রও চিকিৎসা-গবেষণায় উঠে এসেছে।
ধনতেরাসে কীভাবে হয় লক্ষ্মীপুজো?
প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, ধনতেরাসের সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুজো করা হয়। অনেক বাড়িতে ধনতেরাসের কাহিনি পাঠের পাশাপাশি প্রদীপ জ্বালানো হয়। দেবীকে স্বাগত জানাতে বাড়ির প্রবেশপথে চালের গুঁড়ো ও সিঁদুর দিয়ে আলপনা বা রঙ্গোলি আঁকার রীতিও রয়েছে।
ধনতেরাসে ধাতু কেনার রীতি কতটা শাস্ত্রসম্মত?
ধনতেরাস এলেই সোনা, রুপো, কাঁসা কিংবা পিতলের জিনিস কেনার প্রবণতা দেখা যায়। অনেকের বিশ্বাস, এই দিনে মূল্যবান ধাতু বাড়িতে আনলে সংসারে সমৃদ্ধি আসে। তবে পণ্ডিত গিরিশ পাণ্ডার বক্তব্য অনুযায়ী, ধনতেরাসে ধাতু কেনার বিষয়টি নির্দিষ্ট কোনও শাস্ত্রীয় বাধ্যবাধকতা নয়। সময়ের সঙ্গে ব্যবসায়িক ও সামাজিক প্রচলনের মাধ্যমে এই রীতি জনপ্রিয় হয়েছে।
কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে পালিত হয় ধনতেরাস। এই দিনে দেবী লক্ষ্মীর পাশাপাশি ভগবান ধন্বন্তরির পুজোরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ধন্বন্তরির পুজোর পর গিলয়ের রস বা ক্বাথ পান করা শুভ। তবে গিলয়ের রস পান করলেই সারা বছর রোগমুক্ত থাকা বা শরীরে এনার্জি বজায় থাকার কোনও বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তা নেই।













