‘কাঠপুতুলের গ্রাম’-এ ব্যবসার বদল: কাঠের আসবাবে এখন হু-হু করে বাড়ছে আয়

পূর্ব বর্ধমানের নতুনগ্রাম কাঠপুতুলের জন্য বিখ্যাত। এবার শিল্পীরা কাঠের আসবাব তৈরি করে আয় বাড়াচ্ছেন। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে বদলে যাচ্ছে ব্যবসা।

East Bardhaman Business News: পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর নতুনগ্রামে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কাঠের পেঁচা ও কাঠপুতুল তৈরির ঐতিহ্য আজও সমানভাবে জীবন্ত। কিন্তু বাজারের চাহিদা ও ব্যবসার সম্ভাবনা বিবেচনা করে শিল্পীরা সম্প্রতি কাঠের আসবাব তৈরির দিকেও ঝুঁকছেন। ডাইনিং টেবিল থেকে বুক সেলফ—সবই এখন তৈরি হচ্ছে গ্রামের কর্মশালায়। কেন: আয় বাড়ানো ও নতুন বাজার দখল করাই এর মূল কারণ। ফলে গ্রামটির ব্যবসায় এসেছে নতুন দিশা।

‘কাঠপুতুলের গ্রাম’-এ ব্যবসার বদল: কাঠের আসবাবে এখন হু-হু করে বাড়ছে আয়
ঐতিহ্যের গ্রাম নতুনগ্রাম, যেখানে শিকড় কাঠপুতুলে

পূর্বস্থলীর নতুনগ্রাম বহুদিন ধরেই ‘কাঠপুতুলের গ্রাম’ নামে পরিচিত। প্রাচীন এই শিল্পের কেন্দ্রবিন্দু ছিল কাঠের পেঁচা তৈরি। গ্রামের বহু পরিবারই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কাঠ খোদাই, রঙ ও পালিশের মাধ্যমে পুতুল তৈরির কাজ করে আসছেন।সময়ের সঙ্গে অনেকটা বদল এলেও শিল্পীরা এখনও সেই ঐতিহ্যকে আগলে রেখেছেন। পেঁচা, চরিত্রভিত্তিক পুতুল, পৌরাণিক মোটিফ—সবকিছুই এখানকার শিল্পচর্চার অংশ।

বাজারের বদল, শিল্পীদের নতুন ভাবনা

বছরের পর বছর পুতুল বিক্রি হলেও আধুনিক বাজারে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। ক্রেতাদের রুচি বদলেছে, বাড়ছে হোম ডেকরের ব্যবহার। এই অবস্থায় নতুনগ্রামের শিল্পীরা ভাবলেন—ঐতিহ্য ধরে রেখে নতুন সৃষ্টিতেই ভবিষ্যৎ।ফলেই তৈরি হচ্ছে কাঠের আসবাব। পুতুলের পাশাপাশি এখন রান্নাঘরের শেলফ, বড় বেঞ্চ, ডাইনিং টেবিল সেট, কাঠের চেয়ার—সবই তাদের হাতের কাজ।

‘কাঠপুতুলের গ্রাম’-এ ব্যবসার বদল: কাঠের আসবাবে এখন হু-হু করে বাড়ছে আয়
কাঠের আসবাবের চাহিদা বাড়ায় উন্নত হচ্ছে ব্যবসা

নতুন সৃষ্টিতে হাত দেওয়ার পরই চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন এসেছে গ্রামে। কাঠের আসবাবের ক্রেতা বাড়ছে, বিশেষ করে শহর থেকে অর্ডার আসছে বেশি। শিল্পীদের মতে, হস্তশিল্পের ছোঁয়া থাকা নকশার কারণে এসব আসবাবের আলাদা আবেদন রয়েছে।এই আসবাবগুলি সম্পূর্ণ হাতে তৈরি হওয়ায় দামও ক্রেতাবান্ধব। শিল্পীরা বলছেন, “পুতুলের চাহিদা স্থির ছিল, কিন্তু আসবাব শুরু করার পর আয় অন্তত দ্বিগুণ হয়েছে।”

‘কাঠপুতুলের গ্রাম’-এ ব্যবসার বদল: কাঠের আসবাবে এখন হু-হু করে বাড়ছে আয়
ঐতিহ্যের ছাপ—প্রতিটি আসবাবে কাঠের পেঁচা

নতুনগ্রামের সবচেয়ে বড় শক্তি হল তাদের ঐতিহ্য। তাই আধুনিকতার সঙ্গে ঐতিহ্যের মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন শিল্পীরা। প্রতিটি আসবাবেই দেখা যায় কাঠের পেঁচার ছোঁয়া—কোথাও খোদাই, কোথাও আঁকা, আবার কোথাও ছোট্ট শো-পিসের মতো।এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের জন্যই তাদের তৈরি আসবাব বাজারে আলাদা পরিচিতি পাচ্ছে। এমনকি অনেক ক্রেতা শুধু ‘উল পেঁচা মোটিফ’-এর জন্যই অর্ডার দিচ্ছেন।

‘কাঠপুতুলের গ্রাম’-এ ব্যবসার বদল: কাঠের আসবাবে এখন হু-হু করে বাড়ছে আয়
পূর্ব বর্ধমানের নতুনগ্রাম বহু বছর ধরে কাঠের পুতুল তৈরির জন্য পরিচিত। তবে সময়ের সঙ্গে বাজার বদলেছে, তাই শিল্পীরা এখন ঐতিহ্য ধরে রেখে কাঠের আসবাব তৈরিতে মন দিচ্ছেন। ফলে চাহিদা যেমন বেড়েছে, তেমনই আয়ও দ্রুত বাড়ছে। গ্রামজুড়ে বদলে যাচ্ছে শিল্পের পরিসর।

Leave a comment