বর্তমান ব্যস্ত জীবনে অনেকেই সময় বাঁচাতে ফল কেটে খাওয়ার বদলে ফলের জুসের উপর ভরসা রাখছেন। আবার অনেকের ধারণা, জুস খেলেই শরীর দ্রুত পুষ্টি পায়। কিন্তু আদৌ কি ফলের রস গোটা ফলের সমান উপকারী? এই প্রশ্নের উত্তর দিলেন পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
গোটা ফলেই লুকিয়ে আসল পুষ্টি
পুষ্টিবিদদের মতে, গোটা ফল খেলে শরীর পায় ফলের সমস্ত প্রাকৃতিক উপাদান। ফলের মধ্যে থাকা ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট একসঙ্গে কাজ করে শরীরকে ভিতর থেকে সুস্থ রাখে। জুস তৈরির সময় এই উপাদানগুলির একটি বড় অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ফলের জুসে কোথায় সমস্যা?
ফলের রস দেখতে স্বাস্থ্যকর মনে হলেও বাস্তবে তা সব সময় উপকারী নয়। অনেক ক্ষেত্রেই জুস বানানোর সময় অতিরিক্ত চিনি বা কৃত্রিম ফ্লেভার মেশানো হয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে, যা ডায়াবেটিস ও ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ায়।
ফাইবারের অভাবই বড় কারণ
পুষ্টিবিদ কেটা মণ্ডলের মতে, গোটা ফলের সবচেয়ে বড় শক্তি হল ফাইবার। এই ফাইবার হজমশক্তি উন্নত করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। কিন্তু ফলের রস বানালে প্রায় পুরো ফাইবারই বাদ পড়ে যায়, যা জুসের বড় দুর্বলতা।
খোসাতেই লুকিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
আপেল, পেয়ারা, কমলা বা আঙুরের মতো অনেক ফল খোসা-সহ খাওয়া যায়। এই খোসাতেই থাকে ক্যারোটিনয়েডস ও ফ্লাভোনয়েডসের মতো শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরকে সুরক্ষা দেয়। জুসে এই উপাদানগুলি কার্যত অনুপস্থিত।
শরীর সুস্থ রাখা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ফলের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু প্রতিদিন ফলের রস খাবেন, নাকি গোটা ফল—এই প্রশ্নে বিভ্রান্ত অনেকেই। পুষ্টিবিদরা জানাচ্ছেন, দু’টির মধ্যে কোনটি সত্যিই বেশি স্বাস্থ্যকর।













