গলস্টোন থাকলেও উপসর্গ না থাকলে কি হার্ট ঝুঁকিতে?

গলস্টোন থাকলেও উপসর্গ না থাকলে কি হার্ট ঝুঁকিতে?

গলস্টোন: গলস্টোন বা পিত্তাশয়ের পাথর থাকলে শরীরে শুধু হজম সংক্রান্ত সমস্যা নয়, হার্টের ওপরও প্রভাব পড়ে। দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়োনসেই ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ মেডিসিনের সাম্প্রতিক গবেষণা দেখিয়েছে, গলস্টোন থাকলে করোনারি আর্টারি ডিজ়িজ়, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরলের ঝুঁকি বাড়ে। ৬৪,৩৭০ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা জানতে পেরেছেন, অপারেশন না করানো ব্যক্তিদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপসর্গ থাকুক বা না থাকুক, ছোট গলস্টোনের ক্ষেত্রেও কোলিসিস্টেকটোমি করানো উচিত।

গলস্টোনের সঙ্গে হার্টের ঝুঁকি

গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের গলস্টোন আছে এবং যারা অপারেশন করায়নি, তাঁদের মধ্যে অ্যাকিউট করোনারি সিনড্রোম (ACS) ঘটার হার ২.৭%। গলস্টোন না থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই হার ১.৮% এবং অপারেশন করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ২%।ডাক্তাররা জানাচ্ছেন, গলস্টোন শুধুমাত্র হজম সংক্রান্ত সমস্যা নয়, এটি মেটাবলিক সিনড্রোমেরও একটি সতর্ক সংকেত।

ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরলের প্রভাব

গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিসের প্রবণতা গলস্টোন না থাকা ব্যক্তির ক্ষেত্রে ২৭%, অপারেশন করা ব্যক্তির ক্ষেত্রে ৩৫% এবং অপারেশন না করা ব্যক্তির ক্ষেত্রে ৪৩%।

কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে গলস্টোনের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একটি লাইফস্টাইল সম্পর্কিত ডিজ়িজ়।

কোলিসিস্টেকটোমির গুরুত্ব

জেনারেল সার্জন দীপ্তেন্দ্র সরকার মনে করেন, গলস্টোন থাকুক বা না থাকুক, কোলিসিস্টেকটোমি করানো উপকারী।

বিশেষত, বাঙালি খাবারের অভ্যাস, যেমন গুরুপাক, লুচি-পরোটা বা অতিরিক্ত কোলেস্টেরল সমৃদ্ধ খাদ্য, গলস্টোন ও করোনারি সিনড্রোমের ঝুঁকি বাড়ায়।

সতর্কবার্তা ও পরামর্শ

গলস্টোনের উপসর্গ না থাকলেও হার্ট ও মেটাবলিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকতে পারে।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কোলিসিস্টেকটোমি করানো জীবনের জন্য নিরাপদ হতে পারে।

গলস্টোন বা পিত্তাশয়ের পাথর থাকলেও উপসর্গ না থাকলে অনেকেই অপারেশন এড়ান। কিন্তু সাম্প্রতিক কোরিয়ান গবেষণা বলছে, গলস্টোন থাকলে হার্টের রোগ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল বাড়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপসর্গ থাকুক বা না থাকুক, ছোট গলস্টোনের ক্ষেত্রে কোলিসিস্টেকটোমি করানো উপকারী।

Leave a comment