রান্নাঘরের অন্যতম অপরিহার্য উপাদান আদা। চা থেকে তরকারি—সবখানেই এর ব্যবহার। আয়ুর্বেদেও আদার গুণগান রয়েছে। কিন্তু ‘অতিরিক্ত’ হলেই বিপদ। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু শারীরিক অবস্থায় আদা শরীরের উপকারের বদলে ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে। কারা সাবধান থাকবেন? কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে? রইল বিস্তারিত।
বুকজ্বালা ও অ্যাসিডিটি: সংবেদনশীল পেটে বাড়তি ঝুঁকি
অতিরিক্ত আদা খেলে অ্যাসিড রিফ্লাক্স, বুকজ্বালা ও ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাঁদের পেট সংবেদনশীল বা গ্যাস্ট্রিকের প্রবণতা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে আদার ঝাঁঝ উপসর্গ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। মুখে আলসার বা জ্বালাপোড়াও হতে পারে।
রক্ত পাতলা হওয়ার ঝুঁকি: অস্ত্রোপচারের আগে সতর্কতা
আদা প্রাকৃতিকভাবে রক্ত পাতলা করতে সাহায্য করে। কিন্তু যাঁরা ব্লাড থিনার ওষুধ খান বা রক্তপাতজনিত সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের জন্য এটি বিপজ্জনক হতে পারে। অস্ত্রোপচারের আগে বা পরে অতিরিক্ত আদা খেলে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেবন না করাই ভালো।

লো ব্লাড প্রেসার: মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা
আদা রক্তচাপ কমাতে পারে। যাঁদের রক্তচাপ স্বাভাবিকের তুলনায় কম, তাঁদের ক্ষেত্রে বেশি পরিমাণে আদা খেলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা অজ্ঞান হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তাই লো-বিপি রোগীদের সীমিত মাত্রায় সেবন করা উচিত।
গলস্টোনে সতর্কতা: পিত্ত উৎপাদন বাড়ায় আদা
পিত্তথলিতে পাথর (গলস্টোন) থাকলে আদা খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন। কারণ আদা পিত্ত উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে, যা গলস্টোনের ব্যথা বা জটিলতা বাড়াতে পারে।
মুখে ঘা ও অ্যালার্জি: তীব্রতার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
আদার ঝাঁঝালো প্রকৃতি অতিরিক্ত সেবনে মুখে ঘা, জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ত্বকে ফুসকুড়ি, চুলকানি বা চোখ ফুলে যাওয়ার মতো অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে আদা খাওয়া বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আদা হজমে সাহায্য করে, সর্দি-কাশিতে উপকার দেয়—এ কথা সকলেরই জানা। তবে অতিরিক্ত আদা সেবনে বুকজ্বালা, রক্তচাপ কমে যাওয়া, রক্তপাতের ঝুঁকি এমনকি গলস্টোনের সমস্যাও বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্দিষ্ট কিছু রোগে ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আদা বিপজ্জনক হতে পারে।













