থাইরয়েড হরমোনে গোলমাল? সন্তান ধারণে বাধা থেকে চুল-ত্বকের অবনতি—কতটা ঝুঁকি, জানালেন চিকিৎসক

থাইরয়েড হরমোনে গোলমাল? সন্তান ধারণে বাধা থেকে চুল-ত্বকের অবনতি—কতটা ঝুঁকি, জানালেন চিকিৎসক

গলার সামনের দিকে প্রজাপতি আকৃতির ছোট্ট গ্রন্থি—থাইরয়েড। আকারে ছোট হলেও শরীরের বিপাকক্রিয়া, হৃদ্‌স্পন্দন, রক্তচাপ থেকে শুরু করে প্রজননস্বাস্থ্য পর্যন্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজে এর ভূমিকা অপরিসীম। বিশ্বজুড়ে প্রায় ১২ শতাংশ মানুষ থাইরয়েডজনিত সমস্যায় ভোগেন। বিশেষত মহিলাদের মধ্যে এর প্রকোপ বেশি। কিন্তু হরমোনের ওঠাপড়ায় ঠিক কতটা প্রভাব পড়ে সন্তান ধারণের ক্ষমতা বা চুল-ত্বকের স্বাস্থ্যে? জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

থাইরয়েডের ভূমিকা: শরীরের ‘মেটাবলিক কন্ট্রোল সেন্টার’

থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন শরীরের বিপাকের হার নিয়ন্ত্রণ করে। এটি শরীরের তাপমাত্রা, হৃদ্‌স্পন্দন, রক্তচাপ ও শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া সঠিক রাখতে সাহায্য করে। যখন এই হরমোনের মাত্রা কমে যায় (হাইপোথাইরয়েডিজম) বা বেড়ে যায় (হাইপারথাইরয়েডিজম), তখন শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়।

প্রজননক্ষমতায় প্রভাব: গর্ভধারণে কতটা বাধা?

থাইরয়েড হরমোন নারী-পুরুষ উভয়ের প্রজননস্বাস্থ্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

নারীদের ক্ষেত্রে:

ঋতুচক্র অনিয়মিত হতে পারে।

অতিরিক্ত বা কম রক্তস্রাবের সমস্যা দেখা দেয়।

অ্যানোভুলেশন (ডিম্বস্ফোটন না হওয়া) হতে পারে।

গর্ভধারণে বিলম্ব বা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

গর্ভাবস্থায় হরমোনের ভারসাম্য না থাকলে গর্ভপাত বা প্রিম্যাচিউর ডেলিভারির ঝুঁকি বাড়ে।

পুরুষদের ক্ষেত্রে:

শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান কমতে পারে।

শুক্রাণুর গতি হ্রাস পেতে পারে, যা বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে।

তবে চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো পরীক্ষা ও সঠিক ওষুধে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হরমোনের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

মুড ও মানসিক স্বাস্থ্য: বিষণ্নতা না কি থাইরয়েড?

হাইপোথাইরয়েডিজমে অতিরিক্ত ক্লান্তি, উৎসাহের অভাব, মনমরা ভাব, মনোযোগের ঘাটতি ও স্মৃতিশক্তির সমস্যা দেখা যায়। অনেক সময় এটি বিষণ্নতার সঙ্গে মিলে যায়।অন্যদিকে হাইপারথাইরয়েডিজমে উদ্বেগ, খিটখিটে মেজাজ, অস্থিরতা ও অনিদ্রার সমস্যা হয়। সঠিক রোগ নির্ণয় না হলে মানসিক সমস্যার চিকিৎসা হলেও মূল কারণ অজানাই থেকে যেতে পারে।

চুল, ত্বক ও নখ: বাহ্যিক লক্ষণে সতর্কবার্তা

থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে প্রথম লক্ষণ দেখা যায় ত্বক ও চুলে।

হাইপোথাইরয়েডিজমে:

ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ ও ফ্যাকাশে হয়ে যায়।

চুল ভঙ্গুর ও পাতলা হয়, অতিরিক্ত চুল পড়ে।

ভ্রুর লোম পাতলা হতে পারে।

নখ দুর্বল ও খাঁজকাটা হয়ে যায়।

হাইপারথাইরয়েডিজমে:

ত্বক উষ্ণ ও আর্দ্র হয়ে যায়।

চুল দ্রুত পাতলা হতে পারে।

এই পরিবর্তনগুলি অনেক সময় প্রসাধনী সমস্যা মনে হলেও আসলে তা হরমোনজনিত সংকেত।

থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা কম-বেশি হলেই শরীরে দেখা দেয় একাধিক জটিলতা। প্রজননক্ষমতা, মানসিক স্বাস্থ্য, ত্বক ও চুল—সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব স্পষ্ট। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ সমস্যাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

Leave a comment