বিয়েবাড়ি হোক কিংবা দৈনন্দিন সাজ, সোনার গয়না বাঙালি নারীদের কাছে বরাবরই বিশেষ পছন্দের। কিন্তু দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর অনেক সময় চেন, আংটি বা কানের দুলের গায়ে ময়লা জমে যায়। ঘাম, ধুলো, তেল, লোশন ও পাউডারের আস্তরণে হারিয়ে যায় আগের ঝকঝকে ভাব। তখন অনেকেই গয়না পরিষ্কার করাতে ছুটে যান সোনার দোকানে। তবে বাড়িতে পরিষ্কারের কিছু সহজ পদ্ধতি রয়েছে। কিন্তু ভুল উপাদান বা অতিরিক্ত ঘষাঘষিতে গয়নার ক্ষতি হতে পারে। তাই পরিষ্কারের আগে কয়েকটি বিষয় জেনে রাখা দরকার।
কেন সোনার গয়নার উজ্জ্বলতা কমে যায়?
সোনার চেন, কানের দুল বা আংটি সারাদিন শরীরের সংস্পর্শে থাকে। ফলে ঘাম, ত্বকের তেল, ধুলোবালি, সাবান, লোশন এবং প্রসাধনীর উপাদান গয়নার গায়ে জমতে পারে। বিশেষ করে গয়নার নকশার ফাঁকে ফাঁকে ময়লা আটকে গেলে তা সহজে পরিষ্কার হয় না। ধীরে ধীরে গয়নাটি আগের তুলনায় মলিন দেখাতে পারে।
বাড়িতে পরিষ্কারের আগে কী করবেন?
প্রথমেই দেখে নিন গয়নাটি সম্পূর্ণ সোনার তৈরি, নাকি সোনার প্রলেপ দেওয়া। পাশাপাশি তাতে মুক্তো, রত্ন বা অন্য কোনও সূক্ষ্ম পাথর বসানো আছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করুন। কারণ সব ধরনের গয়না একই পদ্ধতিতে পরিষ্কার করা যায় না।সাধারণ, পাথরবিহীন সোনার গয়না পরিষ্কারের ক্ষেত্রে প্রথমে অল্প পরিমাণ হালকা সাবান মেশানো কুসুম গরম জল ব্যবহার করা যেতে পারে। নরম কাপড় বা খুব নরম ব্রাশ দিয়ে আলতোভাবে ময়লা পরিষ্কার করুন।
বেকিং সোডা ব্যবহার করার আগে সতর্ক থাকুন
অনেক ঘরোয়া পদ্ধতিতে গরম জলে বেকিং সোডা মিশিয়ে সোনার গয়না পরিষ্কারের কথা বলা হয়। কিন্তু বেকিং সোডা ঘষে ব্যবহার করলে গয়নার পৃষ্ঠে আঁচড় পড়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে নকশা করা, পালিশ করা বা সূক্ষ্ম কাজের গয়নায় এই ঝুঁকি বেশি।তাই এক কাপ গরম জলে আধ চা চামচ বেকিং সোডা দিয়ে গয়না পাঁচ মিনিট ফুটিয়ে নেওয়ার পদ্ধতি নির্বিচারে অনুসরণ করবেন না। গয়নার ধরন ও নির্মাণপদ্ধতি না জেনে ফুটন্ত জলে ডোবানোও ঠিক নয়।
টুথপেস্ট দিয়ে ঘষলে বাড়তে পারে ক্ষতির আশঙ্কা
অনেকেই মনে করেন, টুথপেস্ট দিয়ে ঘষলেই সোনার গয়না নতুনের মতো চকচক করবে। কিন্তু বেশ কিছু টুথপেস্টে ঘষামাজা করার উপাদান থাকে। এগুলি গয়নার পালিশে দাগ বা সূক্ষ্ম আঁচড় ফেলতে পারে। তাই টুথপেস্ট দিয়ে সোনা পরিষ্কার করা এড়িয়ে চলাই ভালো।পরিষ্কারের জন্য নরম কাপড় এবং উপযুক্ত মৃদু ক্লিনার ব্যবহার করাই নিরাপদ পদ্ধতি।
হলুদ ঘষে কি সোনার গয়না উজ্জ্বল হবে?
রান্নাঘরের মশলা হলুদ দিয়ে সোনার গয়না পরিষ্কারের পরামর্শও অনেক সময় দেওয়া হয়। কিন্তু হলুদ সোনার উজ্জ্বলতা বাড়ায়, এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। উল্টে হলুদের রং গয়নার খাঁজে আটকে যেতে পারে। তাই সোনার গয়নায় হলুদ ঘষার পরামর্শ এড়িয়ে চলুন।
সোনার প্রলেপযুক্ত গয়নায় বাড়তি সাবধানতা
গয়নাটি যদি গোল্ড প্লেটেড বা সোনার প্রলেপযুক্ত হয়, তাহলে বেশি সময় জলে ভিজিয়ে রাখা কিংবা জোরে ঘষা উচিত নয়। এতে উপরের সোনার স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একইভাবে মুক্তো বা সূক্ষ্ম পাথর বসানো গয়না জলে ডোবানো কিংবা ফুটিয়ে পরিষ্কার করাও বিপজ্জনক হতে পারে।
কখন স্যাঁকরার সাহায্য নেওয়া জরুরি?
গয়নায় যদি পাথর বসানো থাকে, কোনও অংশ আলগা হয়ে যায়, রং উঠে যেতে থাকে অথবা দীর্ঘদিনের ময়লা সাধারণ পরিষ্কারে না ওঠে, তাহলে নিজে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে দক্ষ গয়নাশিল্পীর সাহায্য নিন। এতে গয়নার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমবে।
প্রতিদিন ব্যবহারের ফলে সোনার চেন, কানের দুল বা অন্যান্য গয়নায় ঘাম, ধুলো, তেল ও প্রসাধনীর আস্তরণ জমতে পারে। ফলে ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে গয়নার উজ্জ্বলতা। তবে বাড়িতে পরিষ্কারের চেষ্টা করার আগে গয়নাটি খাঁটি সোনা, সোনার প্রলেপযুক্ত, নাকি পাথর বসানো—তা জানা জরুরি। সব ধরনের গয়নায় বেকিং সোডা, টুথপেস্ট বা হলুদ ব্যবহার নিরাপদ নয়।













