খাবার শেষ হতেই টয়লেটের দিকে ছুটতে হয়? বিষয়টি লজ্জাজনক বা অস্বাভাবিক মনে হলেও, সব ক্ষেত্রে এটি রোগের লক্ষণ নয়। অনেক সময় শরীরের স্বাভাবিক হজম প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই তাগিদ আসে। তবে বারবার হলে বা অস্বস্তি বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

গ্যাস্ট্রোকোলিক রিফ্লেক্স কী?
মার্কিন গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডঃ জোসেফ সালহাবের মতে, খাওয়ার পর মলত্যাগের তাগিদ মূলত গ্যাস্ট্রোকোলিক রিফ্লেক্স–এর ফল। খাবার পাকস্থলীতে পৌঁছালে কোলন সংকুচিত হয় এবং অন্ত্রে আগে থেকে থাকা মল বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। এটি শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া, নতুন খাবারের জন্য জায়গা তৈরির একটি প্রাকৃতিক ব্যবস্থা।
কখন এটি সমস্যার লক্ষণ?
সব সময়ই এটি সাধারণ বিষয় নয়। যদি খাওয়ার পর তীব্র পেটব্যথা, ফাঁপা ভাব, ডায়রিয়া বা বারবার মলত্যাগের সমস্যা দেখা দেয়, তবে তা হতে পারে Irritable Bowel Syndrome (IBS)-এর লক্ষণ। পাশাপাশি ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা বা নির্দিষ্ট খাবারের প্রতি সংবেদনশীলতাও এই প্রতিক্রিয়াকে তীব্র করতে পারে।
কোন খাবার বাড়িয়ে দেয় তাগিদ?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু খাদ্যাভ্যাস সমস্যাকে আরও উসকে দেয়। যেমন—
অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার
বেশি মশলাদার পদ
কফি বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়
খুব ঠান্ডা পানীয়
কৃত্রিম মিষ্টি
ধূমপান ও অতিরিক্ত মানসিক চাপ
এসব কারণে অন্ত্রের চলাচল দ্রুত হয় এবং হঠাৎ মলত্যাগের তাগিদ তৈরি হয়।

কোন লক্ষণে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
নিম্নলিখিত উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন—
মলে রক্ত
অকারণে ওজন কমে যাওয়া
রাতে ঘুম ভেঙে টয়লেটে যেতে হওয়া
তীব্র পেটব্যথা বা দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া
এসব ক্ষেত্রে সাধারণ রিফ্লেক্স নয়, অন্য কোনও অন্ত্রজনিত সমস্যা থাকতে পারে।

কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন?
খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলেই উপকার মিলতে পারে—
বড় মিলের বদলে ছোট ও ঘন ঘন খাবার খান
তেল-চর্বিযুক্ত খাবার কমান
ধীরে ও ভালভাবে চিবিয়ে খান
দ্রবণীয় ফাইবার (যেমন সাইলিয়াম, চিয়া বীজ, তিসি) খাদ্যতালিকায় রাখুন
ব্যক্তিগত ‘ট্রিগার’ খাবার চিহ্নিত করে এড়িয়ে চলুন
মানসিক চাপ কমাতে যোগব্যায়াম বা মেডিটেশন অভ্যাস করুন

খাওয়ার পরপরই মলত্যাগের তাগিদ অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি প্রায়শই গ্যাস্ট্রোকোলিক রিফ্লেক্স নামক স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া। তবে যদি ব্যথা, ওজন কমা বা মলে রক্তের মতো উপসর্গ থাকে, তা হলে সতর্ক হওয়া জরুরি। জানুন কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার।













