মাছের ঝোল থেকে নিরামিষ তরকারি—বাঙালি রান্নায় জিরে গুঁড়োর ব্যবহার অনিবার্য। কিন্তু জানেন কি, এই সাধারণ মশলাই হতে পারে বছরের পর বছর সুস্থ থাকার চাবিকাঠি? ভিটামিন এ, ই, বি-কমপ্লেক্স থেকে শুরু করে আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালশিয়ামে ভরপুর জিরে গুঁড়ো নিয়মিত খেলে শরীরের একাধিক সমস্যার সমাধান সম্ভব।
শ্বাসযন্ত্র ও ফুসফুস সুস্থ রাখে
জিরের তেলে থাকা থায়মল শ্বাসযন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটানো ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। নিয়মিত জিরে খেলে সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টের ঝুঁকিও কমে।
রক্তাল্পতা দূর করতে কার্যকর
জিরে আয়রনের চমৎকার উৎস। শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রাখতে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে জিরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। দুর্বলতা ও ক্লান্তি কমাতেও জিরে গুঁড়ো উপকারী।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
জিরেতে থাকা ‘কিউমিনালডিহাইড’ ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্যতালিকায় পরিমিত জিরে রাখা যেতে পারে।
ওজন কমাতে জিরের জুড়ি নেই
ওজন কমাতে অনেকেই খালি পেটে জিরে ভেজানো জল খান। পাশাপাশি রান্নায় জিরে গুঁড়ো ব্যবহার করলে বিপাকহার বাড়ে। গবেষণা অনুযায়ী, জিরে শরীরের অতিরিক্ত চর্বিকে শক্তিতে রূপান্তর করতে সাহায্য করে, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
জিরে ভেজানো জল শরীরকে ডিটক্স করতে সাহায্য করে। এর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে এবং সহজে অসুখ-বিসুখ বাসা বাঁধতে পারে না।
হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে
মেনোপজের সময় মহিলাদের শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যায়। জিরেতে থাকা ফাইটোইস্ট্রোজেন হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং একাধিক শারীরিক সমস্যা কমায়।
হজমশক্তি উন্নত করে
লাইপেজ, অ্যামাইলেজ ও প্রোটিজের মতো উৎসেচকের কার্যকারিতা বাড়িয়ে জিরে হজমশক্তি উন্নত করে। গ্যাস, বদহজম ও পেট ফাঁপার সমস্যায় নিয়মিত জিরে গুঁড়ো ভীষণ উপকারী।
কতটা জিরে খাওয়া উচিত?
উপকারী হলেও অতিরিক্ত জিরে খাওয়া ঠিক নয়। প্রতিদিন রান্নায় পরিমিত পরিমাণে জিরে গুঁড়ো ব্যবহার করলেই যথেষ্ট। অতিরিক্ত মশলা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
বাঙালি হেঁশেলের পরিচিত মশলা জিরে শুধু রান্নার স্বাদ বাড়ায় না, শরীর সুস্থ রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। জিরেতে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের ভাণ্ডার, যা ওজন কমানো, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, হজমশক্তি বাড়ানো ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।













