দিনভর কাজের পর রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে যেমন আরামদায়ক পোশাক বেছে নিই, তেমনই চুলের যত্ন নেওয়াও ভীষণ জরুরি। কিন্তু এই সময়েই সবচেয়ে বেশি ভুল হয়—চুল খোলা রেখে শোয়া ভাল, নাকি বিনুনি করে ঘুমোনো উচিত? শুনতে ছোট বিষয় মনে হলেও, এই অভ্যাস সরাসরি প্রভাব ফেলে চুলের বৃদ্ধি, ভাঙা, খুশকি এবং মাথার ত্বকের স্বাস্থ্যের উপর।
খোলা চুলে ঘুমোনোর সুবিধা কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, চুল খোলা রেখে ঘুমোলে মাথার ত্বকে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে পারে। এতে ঘাম ও আর্দ্রতা জমে থাকে না, ফলে খুশকি, চুলকানি এবং স্ক্যাল্প ইনফেকশনের ঝুঁকি কমে। পাশাপাশি চুলের গোড়ায় অতিরিক্ত টান না পড়ায় চুল ভাঙা ও পড়ার সম্ভাবনাও কমে।
লম্বা ও ঘন চুলে সমস্যা কোথায়?
যাঁদের চুল খুব লম্বা বা ঘন, তাঁদের ক্ষেত্রে খোলা চুলে ঘুমোনো সবসময় আরামদায়ক নাও হতে পারে। রাতে ঘুমের মধ্যে চুল বালিশের সঙ্গে ঘষা খেয়ে জট পাকাতে পারে। এর ফলে সকালে চুল আঁচড়াতে গিয়ে ভাঙার পরিমাণ বেড়ে যায় এবং কোঁকড়ানো ভাবও দেখা দেয়।
রাতে বিনুনি করে ঘুমোনোর উপকারিতা
ঢিলেঢালা বিনুনি করে ঘুমোলে চুল জট বাঁধা থেকে রক্ষা পায়। বিশেষ করে লম্বা চুলের ক্ষেত্রে এটি বেশ কার্যকর। বিনুনি চুলকে সুশৃঙ্খল রাখে, আগা ভাঙা কমায় এবং সকালে চুল সামলানো অনেক সহজ করে তোলে। যারা দ্রুত চুল লম্বা করতে চান, তাঁদের জন্য এই পদ্ধতি উপকারী হতে পারে।
শক্ত বিনুনি কেন ক্ষতিকর?
খুব টাইট করে বিনুনি করলে মাথার ত্বকের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এর ফলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে পড়ে, চুল পড়া বাড়ে এবং চুলের সামনের রেখা পাতলা হয়ে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে মাথাব্যথা বা স্ক্যাল্পে ব্যথাও দেখা দেয়।
রাতে চুল বাঁধার সঠিক নিয়ম
রাতে বিনুনি করলে অবশ্যই আলগা করে বাঁধুন। রাবার ব্যান্ড ব্যবহার না করে নরম স্ক্রাঞ্চি বা কাপড়ের ফিতা ব্যবহার করাই ভাল। চাইলে ঘুমোনোর আগে হালকা তেল বা সিরাম লাগালে চুল আরও মজবুত ও উজ্জ্বল থাকবে।
রাতে ঘুমোনোর সময় চুল খোলা রাখা ভাল, নাকি বিনুনি করে শোয়া বেশি উপকারী—এই প্রশ্নে দ্বিধায় থাকেন বহু মহিলা। কেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, চুলের ধরন ও দৈর্ঘ্য অনুযায়ী সঠিক পদ্ধতি বেছে নিলে চুল পড়া কমে, জট কম হয় এবং চুল দ্রুত লম্বা হতে সাহায্য করে।













