শীতের বাজার মানেই রঙিন পাতা, অফুরন্ত শাকসবজির সারি আর ভরসা জাগানো তাজা সবুজের মেলা। কিন্তু পরিচিত পালং–সর্ষে ঘিরেই আমাদের কেনাকাটা আটকে যায় বেশিরভাগ সময়। অথচ এই মৌসুমেই লুকিয়ে আছে এমন এক শাক, যা পুষ্টি ও গুণাগুণে অসামান্য—কপিপাতা বা কেল। আয়ুর্বেদ থেকে আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান—সব ক্ষেত্রেই এই শাকের সুপারফুড–হিসেবেই সমাদর।
শীতের বাজারে ‘স্বাস্থ্যের খনি’
শীত এলেই বাজার ভরে ওঠে নানান রকম শাক–সবজিতে। চোখ ধাঁধিয়ে দেওয়া রঙের ভিড়ে কোনটা নেবেন আর কোনটা বাদ দেবেন, সে সিদ্ধান্ত নেওয়াই কঠিন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়টায় কপিপাতা বা কেলই হতে পারে সবচেয়ে উপকারী সংযোজন। দামেও সস্তা, আবার পুষ্টিগুণে অনন্য।

আয়ুর্বেদের মতে কেল—হালকা, হজম–সহায়ক, রক্তপরিশোধক
আয়ুর্বেদে কেলকে বলা হয় লঘু সবজি—অর্থাৎ পেট ভরালেও হজমে সমস্যা করে না। এটি শরীরের ‘আমা’ বা জমে থাকা অমেধ্য দূর করতে সাহায্য করে। ফলে শরীর হয় হালকা, মন সতেজ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। নিয়মিত এই শাক খেলে ত্বক থেকেও ডিটক্সের প্রভাব দেখা যায়।
পুষ্টিগুণে সুপারফুড—ভিটামিন A, C, K ও ক্যালসিয়ামে ভরপুর
এক বাটি কেলের মধ্যেই রয়েছে—
ভিটামিন A: দৃষ্টিশক্তি ও ত্বক ভালো রাখে
ভিটামিন C: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বাড়ায়
ভিটামিন K: রক্ত জমাট বাঁধা নিয়ন্ত্রণে রাখে
ক্যালসিয়াম: হাড় মজবুত করে
ফাইবার: অন্ত্র পরিষ্কার রাখে
এই কারণেই কেলকে আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানে পাওয়ারহাউস বলা হয়।
হাড়কে করে শক্তিশালী — বয়স বাড়লেও থাকে সুরক্ষা
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেলে থাকা ভিটামিন K হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে। বয়স বাড়লে অনেকেই অস্টিওপরোসিসে ভোগেন—নিয়মিত কেল খাওয়ায় এই সমস্যার ঝুঁকি কম হতে পারে। ক্যালসিয়াম–সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সের জন্যই কার্যকর।

চোখ, ত্বক ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার পাহারাদার
ভিটামিন A শরীরে প্রয়োজনীয়। এটি চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, ত্বককে উজ্জ্বল করে এবং সংক্রমণ থেকে বাঁচায়। তাই শীতকালে শুকনো ত্বক, চোখের জ্বালা–যন্ত্রণা বা বারবার অসুখ হওয়া রোধে কেল দারুণ উপকারী।
হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়—রক্তনালীর ‘ইলাস্টিসিটি’ বাড়ায়
কেলে এমন কিছু প্রাকৃতিক যৌগ আছে যা খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে সাহায্য করে। রক্তনালী নমনীয় থাকলে হৃদপিণ্ডকে কম পরিশ্রম করতে হয়, রক্তচাপও থাকে নিয়ন্ত্রণে। তাই উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট ব্লক বা কোলেস্টেরল সমস্যা হলে কেল খাদ্যতালিকায় রাখা বিশেষ উপকারী।

হজমশক্তিকে শক্তিশালী করে—ফাইবারে ভরপুর
কেল ফাইবার–সমৃদ্ধ। ফলে এটি—
অন্ত্র পরিষ্কার রাখে
কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমায়
খাবার হজমে সাহায্য করে
আয়ুর্বেদে বলা হয়, হজম ভালো থাকলে শরীর–মনের ভারসাম্যও ভালো থাকে। তাই শীতের অলসতা বা পেটের অস্বস্তি দূর করতে কেল সত্যিই ‘বর’।
শীতের বাজারে মিলছে কপিপাতার শাক বা কেল—যা পুষ্টিগুণে পালং–সর্ষেকেও পিছনে ফেলে দেয়। আয়ুর্বেদে এই পাতাকে বলা হয় রক্তপরিশোধক, হজম–সহায়ক ও অস্থিধাতু পুষ্টিকর। ভিটামিন A, C, K, ক্যালসিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এই সবুজ পাতা হৃদরোগ, ক্লান্তি, কোষ্ঠকাঠিন্য ও রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর।













