হঠাৎ হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা—কিছুক্ষণ পরেই সব স্বাভাবিক। অনেকেই ভাবেন, ‘কিছু না, ঠিক হয়ে গেছে।’ কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই সাময়িক উপসর্গই হতে পারে বড় বিপদের আগাম সতর্কবার্তা। মিনি-স্ট্রোক বা TIA-কে হালকাভাবে নিলে ভবিষ্যতে প্রাণঘাতী স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।

মিনি-স্ট্রোক আসলে কী?
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (TIA) ঘটে যখন মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। কয়েক মিনিট বা ঘণ্টার মধ্যে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক হয়ে গেলে উপসর্গ মিলিয়ে যায়। কিন্তু এই ঘটনাই ইঙ্গিত দেয়, মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহের সমস্যা তৈরি হয়েছে।
কেন এটি বিপজ্জনক?
সিকে বিড়লা হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. কপিল খান্ডেলওয়াল জানান, অনেক রোগী TIA-কে গুরুত্ব দেন না কারণ তাৎক্ষণিক ক্ষতি চোখে পড়ে না। কিন্তু এটি বড় স্ট্রোকের আগাম সংকেত। বিশেষ করে প্রথম ৪৮ ঘণ্টা থেকে তিন মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

কোন লক্ষণগুলো অবহেলা করবেন না
শরীরের একপাশে হঠাৎ দুর্বলতা বা অবশভাব
কথা জড়িয়ে যাওয়া
হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া বা ঝাপসা দেখা
মাথা ঘোরা বা বিভ্রান্তি
হঠাৎ ভারসাম্য হারানো
এই উপসর্গগুলো অল্প সময়ের জন্য হলেও অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কেন দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, TIA হল এমন এক ‘সুযোগের জানালা’ যখন দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বড় স্ট্রোক প্রতিরোধ করা সম্ভব। ব্রেন ইমেজিং, হৃদ্যন্ত্রের পরীক্ষা এবং রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরলের মতো ঝুঁকির কারণ নিয়ন্ত্রণ করলে ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যায়।
সচেতনতার অভাবই বড় সমস্যা
অনেকেই কয়েক ঘণ্টা পর নিজেকে স্বাভাবিক মনে করে চিকিৎসা নিতে দেরি করেন। এই দেরিই ভবিষ্যতে স্থায়ী পক্ষাঘাত বা জীবনহানির কারণ হতে পারে। স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্ক খুব কম ক্ষেত্রেই দ্বিতীয় সুযোগ দেয়।

মিনি-স্ট্রোক বা ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (TIA) অনেকেই গুরুত্ব দেন না, কারণ এর উপসর্গ কয়েক মিনিট বা ঘণ্টার মধ্যে মিলিয়ে যায়। কিন্তু স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আসন্ন বড় স্ট্রোকের শক্তিশালী পূর্বাভাস হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না নিলে ঝুঁকি মারাত্মক হতে পারে।













