Offbeat Shantiniketan: সোনাঝুরি-কোপাই ছেড়ে এবার ঘুরে আসুন ৩০০ বছরের পুরনো জমিদার বাড়ি! মাত্র ৫ টাকায় মিলবে বনেদিয়ানার স্বাদ

সোনাঝুরি ও কোপাইয়ের পাশাপাশি ঘুরে দেখুন বীরভূমের প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো সুরুল সরকার জমিদার বাড়ি। দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য, স্থাপত্য, প্রবেশমূল্য ও যাতায়াতের তথ্য জানুন।

কলকাতার কাছেই ইতিহাসের অলিগলিতে হারিয়ে যেতে চান?

 তা হলে পরবর্তী শান্তিনিকেতন সফরের তালিকায় রাখুন সুরুলের সরকার জমিদার বাড়ি। শতাব্দীপ্রাচীন দুর্গাপুজো, বিশাল থাম, পুরনো ঝাড়বাতি আর বনেদি স্থাপত্যের সমাহারে এই বাড়ি যেন অতীতের এক জীবন্ত দলিল। কীভাবে পৌঁছবেন, কী কী দেখবেন এবং কখন যেতে হবে—জেনে নিন বিস্তারিত।

Offbeat Shantiniketan: সোনাঝুরি-কোপাই ছেড়ে এবার ঘুরে আসুন ৩০০ বছরের পুরনো জমিদার বাড়ি! মাত্র ৫ টাকায় মিলবে বনেদিয়ানার স্বাদ
শান্তিনিকেতনের কাছেই ইতিহাসের ঠিকানা সুরুল সরকার জমিদার বাড়ি

শান্তিনিকেতনে বেড়াতে গেলে পর্যটকদের প্রথম পছন্দের তালিকায় থাকে বিশ্বভারতী, সোনাঝুরির খোয়াই হাট এবং কোপাই নদী। তবে ইতিহাসপ্রেমী ও ঐতিহ্য অনুরাগীদের জন্য সুরুলের সরকার জমিদার বাড়ি হতে পারে এক বিশেষ আকর্ষণ। বীরভূমের বোলপুরের কাছে অবস্থিত এই প্রাচীন বাড়ি তার স্থাপত্য, পারিবারিক ইতিহাস এবং দুর্গাপুজোর ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত।প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী, বর্ধমানের ছোট নীলপুর গ্রাম থেকে ভরতচন্দ্র ঘোষ সুরুলে এসে বসবাস শুরু করেন। বর্ধমানের রাজার কাছ থেকে দুটি জমিদারির লাট কেনার পর তিনি এখানে জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন। ব্রিটিশদের কাছ থেকে ‘সরকার’ উপাধি পাওয়ার পর তাঁর পরিবারের পরিচিতি হয়ে ওঠে সরকার পরিবার হিসেবে।

প্রায় ২৯২ বছরের দুর্গাপুজো, রয়েছে পারিবারিক ঐতিহ্য

সুরুল সরকার জমিদার বাড়ির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এখানকার প্রাচীন দুর্গাপুজো। ভরতচন্দ্র ঘোষের ছেলে কৃষ্ণহরি সরকার প্রায় ২৯২ বছর আগে এই বাড়িতে দুর্গাপুজোর সূচনা করেন বলে জানা যায়। পরবর্তীকালে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগাভাগির কারণে পাশেই আরেকটি পুজোর প্রচলন শুরু হয়, যা ‘ছোট বাড়ি’র পুজো নামে পরিচিত।দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই পুজো শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, স্থানীয় ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পুজোর সময় বাড়ির সাজসজ্জা, প্রতিমা নির্মাণ এবং পুরনো রীতিনীতি দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসেন।

Offbeat Shantiniketan: সোনাঝুরি-কোপাই ছেড়ে এবার ঘুরে আসুন ৩০০ বছরের পুরনো জমিদার বাড়ি! মাত্র ৫ টাকায় মিলবে বনেদিয়ানার স্বাদ
বড় থাম, নাটমন্দির আর সিংহদুয়ার—স্থাপত্যেই মুগ্ধ হবেন

সরকার জমিদার বাড়িতে ঢুকলে প্রথমেই নজর কাড়ে তার বিশাল অট্টালিকা ও বনেদি স্থাপত্য। বড় বড় থাম, প্রাচীন নাটমন্দির, পুজোর মণ্ডপ, বৃহৎ দরজা-জানলা, কড়িকাঠ এবং সুদৃশ্য সিংহদুয়ার বাড়িটির অতীত ঐশ্বর্যের পরিচয় বহন করে।একসময়ে শান্তিনিকেতনের ঠাকুর পরিবারের সঙ্গেও এই জমিদার পরিবারের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলে জানা যায়। ফলে বাড়িটির ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বও যথেষ্ট আকর্ষণীয়।

হাতে তৈরি প্রতিমা, পুরনো ঝাড়বাতিতে আলোকিত হয় বাড়ি

দুর্গাপুজোর সময় সরকার জমিদার বাড়ির রূপ আরও মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে। এখানে প্রতিমার মুখ ছাঁচে তৈরি না করে হাতে গড়ার রীতি রয়েছে বলে জানা যায়। প্রতিমার চালচিত্রও হাতে আঁকা হয় এবং বংশপরম্পরায় নির্দিষ্ট মৃৎশিল্পীরাই এই কাজ করে আসছেন।পুজোর দিনগুলিতে বাড়িতে সাজানো হয় পুরনো বেলজিয়ান কাচের ঝাড়বাতি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ঝাড়বাতিগুলি বিদ্যুতের বদলে রেড়ির তেলে জ্বালানো হয়। দেবী দুর্গাকেও পরিবারের প্রাচীন অলংকার ও সম্পদ দিয়ে সাজানোর ঐতিহ্য রয়েছে। সব মিলিয়ে বনেদি দুর্গাপুজোর স্বাদ পেতে এই বাড়ি হতে পারে বিশেষ গন্তব্য।

Offbeat Shantiniketan: সোনাঝুরি-কোপাই ছেড়ে এবার ঘুরে আসুন ৩০০ বছরের পুরনো জমিদার বাড়ি! মাত্র ৫ টাকায় মিলবে বনেদিয়ানার স্বাদ
মাত্র ৫ টাকায় প্রবেশ, তবে ছবি তোলার নিয়ম মানতে হবে

সুরুল সরকার জমিদার বাড়ি ঘুরে দেখার জন্য খুব বেশি খরচ করতে হয় না। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে বাড়ি দর্শনের জন্য প্রবেশমূল্য নেওয়া হয় না। বছরের অন্য সময় মাথাপিছু প্রবেশমূল্য মাত্র ৫ টাকা।নিজের মোবাইলে ব্যক্তিগত ছবি তোলার অনুমতি থাকলেও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ছবি, ভিডিও বা রিল তৈরির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নিয়ম ভাঙলে জরিমানার বিধানও রয়েছে। তাই যাওয়ার আগে দর্শনের অনুমতি ও বর্তমান নিয়মকানুন সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভালো।

কীভাবে পৌঁছবেন সুরুল সরকার জমিদার বাড়িতে?

ট্রেনে: বোলপুর-শান্তিনিকেতন স্টেশনে নেমে টোটো বা অটোয় সুরুল সরকার জমিদার বাড়ি পৌঁছনো যায়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্টেশন থেকে দূরত্ব প্রায় ৫ কিলোমিটার। টোটো ভাড়া আনুমানিক ১৫০–২০০ টাকা হতে পারে। তবে ভাড়া ও দূরত্ব পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলাতে পারে।

প্রান্তিক স্টেশন থেকে: প্রান্তিক স্টেশনে নেমে সোনাঝুরি হাটের দিক দিয়েও যাওয়া যায়। এই পথে দূরত্ব প্রায় ৭ কিলোমিটার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সব ট্রেন প্রান্তিক স্টেশনে থামে না, তাই যাত্রার আগে ট্রেনের স্টপেজ দেখে নিন।

সড়কপথে: কলকাতা থেকে গাড়িতে বোলপুরের দিকে এসে বোলপুর বাইপাস অথবা ইলামবাজার ও শ্রীনিকেতন মোড় হয়ে সুরুল গ্রামে পৌঁছনো যায়। জমিদার বাড়ির কাছে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

Offbeat Shantiniketan: সোনাঝুরি-কোপাই ছেড়ে এবার ঘুরে আসুন ৩০০ বছরের পুরনো জমিদার বাড়ি! মাত্র ৫ টাকায় মিলবে বনেদিয়ানার স্বাদ
শান্তিনিকেতন মানেই বিশ্বভারতী, সোনাঝুরির খোয়াই হাট কিংবা কোপাই নদীর অপরূপ সৌন্দর্য। তবে এই পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রগুলির বাইরেও রয়েছে ইতিহাস ও ঐতিহ্যে মোড়া এক আকর্ষণীয় ঠিকানা—বীরভূমের সুরুল সরকার জমিদার বাড়ি। প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো এই বাড়ির বিশাল অট্টালিকা, প্রাচীন নাটমন্দির, সিংহদুয়ার এবং ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো পর্যটকদের অন্যরকম অভিজ্ঞতা দিতে পারে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়, পুজোর সময় বিনামূল্যে দর্শন করা গেলেও বছরের অন্য সময় মাত্র ৫ টাকা প্রবেশমূল্য দিয়ে ঘুরে দেখা যায় এই ঐতিহাসিক বাড়ি।

Leave a comment