কৃত্রিম রং, গন্ধ ও ক্ষতিকারক কেমিক্যালের দাপটে যখন সাধারণ খাবারই হয়ে উঠছে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, ঠিক তখনই দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর থেকে উঠে এল এক ব্যতিক্রমী সাফল্যের গল্প। শুধু বাঁশ আর সামুদ্রিক লবণ ব্যবহার করে তৈরি ‘বাম্বু সল্ট’ এখন শুধু স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের পছন্দই নয়, হয়ে উঠেছে লাভজনক ব্যবসার নতুন মডেল।
![]()
বাঁশের নুনে বদলাচ্ছে ভাগ্য
জয়নগরের এক যুবক নিমপিট এলাকায় শুরু করেছেন বাম্বু সল্ট তৈরির কাজ। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে তৈরি হচ্ছে এই বিশেষ নুন। বাঁশের ভেতরে সামুদ্রিক লবণ ভরে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় চুল্লিতে পুড়িয়ে তৈরি করা হয় এই বাম্বু সল্ট। পুরো প্রক্রিয়াটিই পরিবেশবান্ধব ও প্রাকৃতিক।
![]()
অল্প পুঁজি, বড় সম্ভাবনা
এই ব্যবসার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল—এর জন্য বিপুল লগ্নির প্রয়োজন নেই। একটি সাধারণ চুল্লি, উন্নত মানের বাঁশ, বিশুদ্ধ সামুদ্রিক লবণ আর কিছু আনুষঙ্গিক উপকরণ থাকলেই শুরু করা যায় এই উদ্যোগ। অল্প পুঁজিতে শুরু করেও ধীরে ধীরে বড় পরিসরে ব্যবসা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
![]()
স্বাস্থ্যের দিক থেকেও উপকারী
চিকিৎসকদের একাংশের মতে, বাম্বু সল্টে প্রাকৃতিক মিনারেল ও ক্ষারধর্মী উপাদান থাকায় এটি শরীরের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি উপকারী। কৃত্রিমভাবে প্রক্রিয়াজাত নুনের বদলে এই ধরনের প্রাকৃতিক লবণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। রাশিয়া ও কোরিয়ায় বহু বছর ধরেই এই নুনের ব্যবহার জনপ্রিয়।
চাহিদা বাড়ছে দেশজুড়ে
স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতেও বাম্বু সল্টের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। অনলাইন ও স্থানীয় বাজার—দু’জায়গাতেই এই নুনের কদর বাড়ছে বলে জানাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। ফলে ভবিষ্যতে আরও কর্মসংস্থান তৈরির সম্ভাবনাও উজ্জ্বল।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরে বাঁশ ও সামুদ্রিক লবণ ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে স্বাস্থ্যকর ‘বাম্বু সল্ট’। অল্প পুঁজি, সামান্য পরিকাঠামো আর দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে এই নুন বানিয়ে ইতিমধ্যেই বিরাট অঙ্কের আয় করছেন এক স্থানীয় যুবক। কর্মসংস্থানের নতুন দিশা দেখাচ্ছে এই উদ্যোগ।













