দক্ষিণ এশীয় রান্নার অপরিহার্য উপাদান কারিপাতা শুধু স্বাদই নয়, স্বাস্থ্যগুণেও ভরপুর। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে হজমশক্তি বাড়ানো—এই পাতার গুণের শেষ নেই। কিন্তু প্রাকৃতিক হলেই যে সবকিছু সবার জন্য নিরাপদ, তা নয়। বিশেষ কিছু শারীরিক অবস্থায় কারিপাতা অতিরিক্ত খেলে শরীরে বিপজ্জনক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
ডায়াবেটিস রোগীদের বাড়তি সতর্কতা জরুরি
কারিপাতা রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু যারা ইনসুলিন বা মেটফর্মিনের মতো ওষুধ খান, তাঁদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কারিপাতা খেলে হঠাৎ ব্লাড সুগার বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত কাঁচা কারিপাতা খাওয়া উচিত নয়।

হাই ব্লাড প্রেশারের রোগীরা সাবধান
কারিপাতায় থাকা কিছু অ্যালকালয়েড রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। তবে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের সঙ্গে অতিরিক্ত কারিপাতা খেলে BP অস্বাভাবিকভাবে কমে যেতে পারে। এর ফলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা হার্ট সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে।
যাদের অ্যালার্জির সমস্যা আছে
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কারিপাতা অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। ত্বকে ফুসকুড়ি, চুলকানি, ঠোঁট ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। আগে কখনও ভেষজ বা মশলায় অ্যালার্জি থাকলে বিশেষ সতর্কতা জরুরি।

গর্ভবতী মহিলাদের জন্য ঝুঁকি
গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত কারিপাতা খেলে হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কিছু ক্ষেত্রে এটি অকাল সংকোচন বা শারীরিক অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তাই এই সময়ে পরিমিত পরিমাণে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে খাওয়াই নিরাপদ।
হজমের সমস্যা যাদের আছে
কারিপাতায় ফাইবারের পরিমাণ বেশি। অতিরিক্ত খেলে পেট ফাঁপা, গ্যাস বা ডায়রিয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে কাঁচা কারিপাতা বেশি খেলে অন্ত্রে চাপ পড়ে এবং শরীর ঝাঁঝরা হয়ে পড়তে পারে।
কারিপাতা ডায়াবেটিস ও হজমে উপকারী হলেও সবার জন্য নিরাপদ নয়। অতিরিক্ত বা অনিয়ন্ত্রিত সেবনে ব্লাড সুগার, রক্তচাপ ও হরমোনের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। কোন ৫ জনের বিশেষ সতর্কতা জরুরি, জানুন বিস্তারিত।













