ঘূর্ণিঝড় অর্নবের প্রভাবে বিহারে ২৮ অক্টোবর থেকে বৃষ্টির পূর্বাভাস, ২৯ অক্টোবর অরেঞ্জ অ্যালার্ট

বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় ঘূর্ণিঝড় অর্নবের প্রভাবে বিহারে ২৮ অক্টোবর থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৯ অক্টোবর ঝোড়ো হাওয়া, বজ্রপাত এবং ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে বলে অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় অর্নবের প্রভাবে বিহারে ২৮ অক্টোবর থেকে বৃষ্টির পূর্বাভাস, ২৯ অক্টোবর অরেঞ্জ অ্যালার্ট
Photo Credit / Attribution: Google

বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় হয়ে ওঠা ঘূর্ণিঝড় ‘অর্নব’-এর প্রভাবে বিহারের আবহাওয়ায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবর থেকে রাজ্যের একাধিক এলাকায় বৃষ্টির তৎপরতা বাড়তে পারে। ২৯ অক্টোবর ঝোড়ো হাওয়া, বজ্রপাত এবং দমকা বাতাসের আশঙ্কায় জারি করা হয়েছে কমলা সতর্কতা বা অরেঞ্জ অ্যালার্ট। এই সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনে গরমের প্রকোপ কমতে পারে। তবে ঝোড়ো হাওয়া, বজ্রপাত এবং বৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত আবহাওয়া ব্যবস্থা ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে। এর প্রভাবে পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যে আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ব্যবস্থার প্রভাবে বিহারে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়তে পারে এবং মেঘের আনাগোনাও বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে রাজ্যের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে বিহারে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব মূলত বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রপাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও তীব্রতার উপর নির্ভর করবে।

২৭ অক্টোবর বিহারের অধিকাংশ এলাকায় আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। তবে ২৮ অক্টোবর থেকে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। রাজ্যের কয়েকটি জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২৯ অক্টোবর আবহাওয়ার তৎপরতা আরও বাড়তে পারে। ওই দিন একাধিক এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া, বিদ্যুতের ঝলকানি এবং বজ্রপাতের আশঙ্কা রয়েছে।

৩০ অক্টোবরও রাজ্যের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ আবহাওয়াজনিত তৎপরতা অব্যাহত থাকতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট জেলার জন্য জারি করা আবহাওয়া সতর্কতার দিকে নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

পাটনা-সহ দক্ষিণ বিহারের একাধিক এলাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে। আকাশ মেঘলা হওয়া এবং বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কমতে পারে। তবে ভারী বৃষ্টির সময় শহরের রাস্তায় জল জমা, যান চলাচলে বিঘ্ন এবং খোলা জায়গায় রাখা সামগ্রীর ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

বাতাসের গতিবেগ বাড়লে দুর্বল গাছের ডাল ভেঙে পড়তে পারে। অস্থায়ী নির্মাণকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। খারাপ আবহাওয়ার সময় অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বেরোনো এড়িয়ে চলার প্রয়োজন রয়েছে।

উত্তর বিহারের জেলাগুলিতেও বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনার কারণে সতর্ক থাকতে হবে। পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, গোপালগঞ্জ, সিওয়ান এবং সংলগ্ন এলাকাগুলির আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর নজর রাখা প্রয়োজন। দক্ষিণ বিহারের কয়েকটি জেলাতেও বৃষ্টির প্রভাব পড়তে পারে।

রাজ্যের সব এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা এক রকম হবে না। কোথাও হালকা বৃষ্টি হতে পারে, আবার অন্য এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়া এবং তুলনামূলক বেশি বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ পূর্বাভাসের ভিত্তিতে বিভিন্ন জেলার জন্য জারি করা সতর্কতায় পরিবর্তনও হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য প্রভাবে কৃষিকাজেও প্রভাব পড়তে পারে। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে একাধিক এলাকায় খরিফ ফসল কাটার পাশাপাশি মাঠ থেকে উৎপাদিত ফসল সংগ্রহের কাজ চলছে। এই সময় বৃষ্টি হলে জমিতে দাঁড়িয়ে থাকা ফসল, কেটে খোলা জায়গায় রাখা শস্য এবং অন্যান্য কৃষিকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ঝোড়ো হাওয়ার কারণে ফসল মাটিতে নুয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একটানা বৃষ্টি হলে জমিতে জল জমার সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে ফসল কাটা ও সংরক্ষণের কাজের পরিকল্পনা করার প্রয়োজন রয়েছে। খোলা জায়গায় রাখা শস্য নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখা এবং প্রয়োজনে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখার মাধ্যমে বৃষ্টিজনিত ক্ষতি কমানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

২৯ অক্টোবর বজ্রপাতের সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে সাধারণ মানুষকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আকাশে বিদ্যুতের ঝলকানি ও বজ্রধ্বনি শোনা গেলে খোলা মাঠ, কৃষিজমি, নদী বা পুকুরের ধারে অবস্থান করা এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। গাছের নীচে দাঁড়ানোও বিপজ্জনক হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পাকা বাড়ির ভিতরে আশ্রয় নেওয়া উচিত।

বিদ্যুতের খুঁটি, তার এবং ধাতব কাঠামো থেকে দূরত্ব বজায় রাখা প্রয়োজন। ঝোড়ো হাওয়ার সময় দুর্বল দেওয়াল, হোর্ডিং এবং অস্থায়ী কাঠামোর কাছাকাছি দাঁড়ানো এড়িয়ে চলতে হবে। খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে যাত্রা করার আগে রাস্তার পরিস্থিতি এবং আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়ারও প্রয়োজন রয়েছে।

বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছনোর আশঙ্কা থাকায় গ্রামীণ ও শহরাঞ্চল, উভয় ক্ষেত্রেই সতর্কতা প্রয়োজন। খোলা জায়গায় রাখা হালকা সামগ্রী ঝোড়ো হাওয়ায় উড়ে যেতে পারে। বাড়ির ছাদ ও বারান্দায় রাখা জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখা উচিত।

কৃষক, নির্মাণকাজে নিযুক্ত শ্রমিক এবং খোলা জায়গায় কাজ করেন এমন ব্যক্তিদের আবহাওয়া খারাপ হলে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। বৃষ্টির সময় রাস্তায় পিচ্ছিল ভাব বাড়তে পারে। নিচু এলাকায় জল জমার কারণে যাতায়াতেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিহারে সম্ভাব্য বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রার পরিবর্তন হতে পারে। আকাশ মেঘলা থাকা এবং বৃষ্টির ফলে দিনের তাপমাত্রা কমতে পারে। সকাল ও সন্ধ্যার দিকে আবহাওয়া তুলনামূলক ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে। তবে তাপমাত্রা কতটা কমবে, তা বৃষ্টির পরিমাণ এবং স্থানীয় আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে।

অক্টোবরের শেষ কয়েক দিনের এই আবহাওয়ার পরিবর্তন মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে। খারাপ আবহাওয়ার সময় শিশু ও প্রবীণদের অপ্রয়োজনে বাইরে যাওয়া থেকে বিরত রাখা এবং নিরাপদ যাতায়াতের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্নব’-এর সম্ভাব্য প্রভাবের কথা মাথায় রেখে বিহারের বাসিন্দাদের আগামী কয়েক দিন আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিনের দিকে নজর রাখতে হবে। ২৮ অক্টোবর থেকে বৃষ্টির তৎপরতা বাড়ার সম্ভাবনা এবং ২৯ অক্টোবর ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের সতর্কতা থাকায় আগাম সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

কৃষকদের ফসল ও শস্য সুরক্ষিত রাখার প্রস্তুতি নিতে হবে। সাধারণ মানুষকে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া ব্যবস্থার গতিপথ ও তীব্রতার পরিবর্তনের সঙ্গে পূর্বাভাসেও বদল আসতে পারে। তাই সরকারি সূত্রে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে দৈনন্দিন কাজকর্ম ও যাতায়াতের পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।

Leave a comment