আমরা দাঁতকে কেবল খাবার চিবানোর উপকরণ ভাবলেও, চিকিৎসকরা বলছেন—মুখই শরীরের প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর। অস্বাস্থ্যকর দাঁত ও মাড়ি শুধু মুখেই সীমাবদ্ধ থাকে না, তার প্রভাব পড়তে পারে হৃদ্যন্ত্র, মস্তিষ্ক এমনকি হজম প্রক্রিয়াতেও। তাই দাঁতের যত্ন মানে শুধু হাসি সুন্দর রাখা নয়, বরং সামগ্রিক স্বাস্থ্য রক্ষা।
সঠিক ব্রাশিং পদ্ধতিই প্রথম অস্ত্র
দন্ত বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন অন্তত দু’বার সঠিক পদ্ধতিতে দাঁত ব্রাশ করাই সবচেয়ে জরুরি। ব্রাশ নরম হওয়া উচিত, তবে অতিরিক্ত নরম নয়। ৪৫ ডিগ্রি কোণে ব্রাশটি মাড়ির কাছে রেখে উপরের দিকে টানুন—সামনে-পিছনে ঘষাঘষি নয়। এতে মাড়ির ক্ষতি কম হয় এবং দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাবারের কণা বেরিয়ে আসে।
দুই মিনিটের বেশি ব্রাশ না করাই ভালো। অতিরিক্ত সময় ব্রাশ করলে এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
টুথপেস্ট বাছাইয়ে সচেতনতা জরুরি
সব টুথপেস্ট এক নয়। কম রাসায়নিকযুক্ত, ফ্লুরাইড সমৃদ্ধ ভালো মানের টুথপেস্ট ব্যবহার করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। অতিরিক্ত ফেনা বা কড়া স্বাদের পেস্ট অনেক সময় মাড়িতে জ্বালাভাব তৈরি করতে পারে। তাই নিজের দাঁতের গঠন ও সমস্যার ভিত্তিতে টুথপেস্ট বেছে নেওয়া উচিত।
জিহ্বা পরিষ্কার না করলে অপূর্ণ যত্ন
অনেকেই দাঁত ব্রাশ করলেও জিহ্বা পরিষ্কার করতে ভুলে যান। অথচ জিহ্বার উপর জমে থাকা ব্যাকটেরিয়াই মুখের দুর্গন্ধের মূল কারণ। প্রতিদিন ব্রাশের পর জিহ্বা পরিষ্কারক দিয়ে আলতোভাবে জিহ্বা পরিষ্কার করলে জীবাণুর স্তর কমে যায় এবং নিঃশ্বাস থাকে সতেজ।
মাউথওয়াশ অতিরিক্ত সুরক্ষা দেয়
অ্যালকোহল-মুক্ত মাউথওয়াশ সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করলে মুখের জীবাণু কমে এবং মাড়ি সুস্থ থাকে। যদিও এটি ব্রাশের বিকল্প নয়, তবে অতিরিক্ত সুরক্ষা প্রদান করে। বিশেষ করে যারা মাড়ির প্রদাহে ভোগেন, তাদের জন্য এটি উপকারী হতে পারে।
লবণ-জল গার্গল: ঘরোয়া অথচ কার্যকর
হালকা গরম জলে এক চিমটে লবণ মিশিয়ে গার্গল করলে মুখের ভেতরের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয় এবং মাড়ির ফোলা কমে। নিয়মিত লবণ-জল ব্যবহার করলে এনামেল রক্ষা পায় এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।
দাঁতের পোকা, কালো দাগ, মাড়ির সংক্রমণ—সব কিছুর বিরুদ্ধে কার্যকর পাঁচটি দৈনন্দিন টিপস দিলেন দন্ত বিশেষজ্ঞরা। সঠিক ব্রাশিং পদ্ধতি, জিহ্বা পরিষ্কার, মাউথওয়াশ ব্যবহার ও লবণ-জল গার্গল—এই নিয়ম মানলেই মুখের স্বাস্থ্য থাকবে সুরক্ষিত।













