শীত পড়তেই সর্দি-কাশি, সংক্রমণ ও নানা শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। এমন পরিস্থিতিতে রান্নাঘরের এক সাধারণ উপাদানই হতে পারে আপনার শরীরের ঢাল—রসুন। প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদ ও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে রসুনের ঔষধি গুণের কথা বলা হয়েছে।

রসুন কেন শীতের ‘সুপারফুড’?
রসুনে রয়েছে ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই উপাদানগুলি শীতকালে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। নিয়মিত রসুন খেলে সংক্রমণের আশঙ্কা অনেকটাই কমে।
হৃদরোগ ও কোলেস্টেরলের বিরুদ্ধে রসুনের লড়াই
বিশেষজ্ঞদের মতে, রসুন খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে সাহায্য করে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে। ফলে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে। শীতকালে যাঁদের রক্তচাপ ওঠানামা করে, তাঁদের জন্য রসুন বিশেষ উপকারী।

রক্ত পরিষ্কার ও ত্বক সুস্থ রাখতে কার্যকর
রসুনের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এর ফলে ব্রণ, চুলকানি বা ত্বকের নানা সংক্রমণ কমতে পারে। শীতকালে শুষ্ক ত্বকের সমস্যাতেও রসুন উপকারে আসে।
কী ভাবে রসুন খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাবেন?
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, খালি পেটে ১–২ কোয়া কাঁচা রসুন খেলে সর্বাধিক উপকার পাওয়া যায়। তবে সরাসরি খেতে অসুবিধা হলে সবজি, ডাল, চাটনি কিংবা রান্নার অন্যান্য পদে রসুন ব্যবহার করা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞের মতামত কী বলছে?
চিকিৎসক ড. রাঘবেন্দ্র চৌধুরীর মতে, “রসুনে থাকা প্রয়োজনীয় খনিজ ও পুষ্টি উপাদান শরীরকে ভিতর থেকে সুস্থ রাখে। নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে রসুন খেলে বহু রোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব।

শীতকালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে রসুন হতে পারে প্রাকৃতিক মহৌষধ। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ, হৃদরোগ প্রতিরোধ থেকে ত্বক ও রক্ত পরিষ্কার—একাধিক উপকারে ভরপুর এই ঘরোয়া উপাদান। তবে উপকার পেতে হলে জানতে হবে সঠিক সময় ও ব্যবহার পদ্ধতি।













