মুলো সেদ্ধ হলে গোটা পাড়া টের পায়—গন্ধে! সেই কারণেই অনেকের পাতে মুলো পড়লেই মুখ বেঁকিয়ে ওঠে। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, স্বাদ বা গন্ধ নয়—গুণের দিক থেকে বিচার করলে শীতের অন্যতম উপকারী সবজি হল মুলো। নিয়মিত মুলো খেলে শরীর পায় এমন সব উপাদান, যা বহু ওষুধের কাজও করতে পারে।

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
চিকিৎসক ডা. পি সাহার মতে, মুলোতে রয়েছে ফোলেট, ফাইবার, রাইবোফ্ল্যাভিন, পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও ক্যালশিয়ামের মতো একাধিক প্রয়োজনীয় খনিজ। এই সব উপাদান একত্রে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।
শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মুলো বিশেষ উপকারী। মুলোর মধ্যে থাকা গ্লুকোসিনোলেট ও আইসোথিয়োসায়ানেট নামক দুটি উপাদান রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ফলে নিয়মিত মুলো খেলে সুগার স্পাইক হওয়ার সম্ভাবনা কমে।

লিভারের টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে
লিভার সুস্থ রাখতে মুলো অত্যন্ত কার্যকর। এই আনাজের ভিতরে থাকা বিশেষ উৎসেচকগুলি লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়ায় এবং জমে থাকা টক্সিন সহজে বের করে দিতে সাহায্য করে। তাই ফ্যাটি লিভার বা হজমজনিত সমস্যায় মুলো উপকারী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

হার্ট সুস্থ রাখে মুলো
মুলোতে থাকা ভিটামিন সি, ক্যালশিয়াম ও পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মুলোর মধ্যে ট্রিগোনেলিন নামের একটি বিশেষ উপাদান রয়েছে, যা রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখে এবং হৃদ্যন্ত্রের ঝুঁকি কমায়।
ছত্রাকঘটিত সংক্রমণের বিরুদ্ধে ঢাল
মুলো অ্যান্টিফাঙ্গাল গুণেও সমৃদ্ধ। এর মধ্যে থাকা RSAFP-2 নামক একটি অ্যান্টিফাঙ্গাল প্রোটিন শরীরে ছত্রাকের আক্রমণ প্রতিরোধ করে। ফলে ত্বক, নখ বা অভ্যন্তরীণ ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।

মুলো মানেই দুর্গন্ধ—এই ধারণা বদলাতে বলছেন পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকেরা। শীতে সহজলভ্য এই আনাজ শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে, লিভারের টক্সিন বের করতে সাহায্য করে এবং ছত্রাকঘটিত সংক্রমণ প্রতিরোধেও কার্যকর ভূমিকা নেয়।













