তেঁতুল একেবারেই পছন্দ নয়? একটু খেলেই সুগার ও কোলেস্টেরলে যে বদল আসে, জানলে আজই বাজার থেকে কিনে আনবেন

তেঁতুল একেবারেই পছন্দ নয়? একটু খেলেই সুগার ও কোলেস্টেরলে যে বদল আসে, জানলে আজই বাজার থেকে কিনে আনবেন

টক স্বাদের জন্য অনেকেই তেঁতুল এড়িয়ে চলেন। কিন্তু এই সাধারণ রান্নাঘরের উপকরণই যে সুগার, কোলেস্টেরল ও হৃদযন্ত্রের জন্য বড় আশীর্বাদ হতে পারে, তা জানেন কি? বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের মতে, পাকা তেঁতুলের পুষ্টিগুণ শরীরের একাধিক জটিল সমস্যার মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে।

হৃদরোগ ও সুগার সমস্যায় তেঁতুল কেন গুরুত্বপূর্ণ

হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি বা যাঁরা রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ে দীর্ঘদিন চিন্তায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য তেঁতুল বিশেষ উপকারী বলে জানাচ্ছেন গবেষকরা। নিয়মিত অল্প পরিমাণে তেঁতুল খেলে রক্তের গঠন ও প্রবাহে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়।

তেঁতুলে থাকা শক্তিশালী উপাদান

তেঁতুলে রয়েছে ফেনোলিক যৌগ, ফ্ল্যাভোনয়েড ও পলিফেনলের মতো শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। এই উপাদানগুলি কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল কার্যকলাপেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

ওজন কমাতেও সাহায্য করে

তেঁতুলে প্রচুর ফাইবার থাকলেও চর্বির পরিমাণ প্রায় নেই বললেই চলে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত তেঁতুল খেলে হজম প্রক্রিয়া ভালো হয় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সুস্থ ব্যক্তি প্রতিদিন ১০–২০ গ্রাম তেঁতুল নিরাপদে খেতে পারেন।

ফ্লোরাইডের ক্ষতি কমাতেও কার্যকর

অতিরিক্ত ফ্লোরাইডযুক্ত জল বা অন্যান্য উৎসের কারণে শরীরে ফ্লোরাইড জমে ফ্লুরোসিসের ঝুঁকি বাড়ে, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতিদিন প্রায় ১০ গ্রাম তেঁতুল খেলে শরীরে অতিরিক্ত ফ্লোরাইডের প্রভাব কিছুটা কমানো সম্ভব।

অতিরিক্ত তেঁতুল খেলে কী সমস্যা হতে পারে

সব ভালো জিনিসেরই যেমন সীমা আছে, তেঁতুলের ক্ষেত্রেও তেমনটাই। বেশি পরিমাণে তেঁতুল খেলে রক্ত অতিরিক্ত পাতলা হয়ে যেতে পারে, রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে যেতে পারে এবং রক্ত জমাট বাঁধতে দেরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা

এই বিষয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষক ড. প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন,

রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরল ও হৃদরোগ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন? গবেষণায় উঠে আসছে, পাকা তেঁতুল নিয়মিত ও পরিমিত খেলে সুগার কন্ট্রোল, কোলেস্টেরল কমানো এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিতে পারে।

Leave a comment