বাইরের বাতাসে দূষণের মাত্রা বাড়লে তার প্রভাব পড়ে ঘরের ভিতরেও। জানলা-দরজা বন্ধ রাখলেও ধুলোবালি ও সূক্ষ্ম দূষিত কণা ঘরে ঢুকে পড়তে পারে। তাই বাড়ির বাতাস পরিষ্কার রাখতে এয়ার পিউরিফায়ারের চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু দামি এয়ার পিউরিফায়ার কেনার সামর্থ্য সবার থাকে না। আপনার বাড়িতে যদি AC থাকে, তাহলে সেটিকে কাজে লাগিয়েই বাতাস পরিষ্কারের একটি বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করতে পারেন। প্রয়োজন শুধু উপযুক্ত HEPA ফিল্টার।
দূষণ থেকে বাঁচতে কাজে লাগতে পারে বাড়ির AC
২০২৬ সালের ২ নভেম্বর সকাল ৭টায় দিল্লির AQI বা বায়ুর গুণমান সূচক ৩০৭-এ পৌঁছেছিল। শীতের মরশুমে দূষণের মাত্রা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শুধু বাইরের বাতাস নয়, বাড়ির ভিতরের বাতাসের গুণমান নিয়েও সচেতন হওয়া জরুরি।সাধারণত এয়ার পিউরিফায়ার বাতাস টেনে নিয়ে বিশেষ ফিল্টারের সাহায্যে ধুলো, পরাগরেণু ও সূক্ষ্ম দূষিত কণা আটকে দেয়। একই ধরনের ফিল্টার ব্যবহারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু AC-কেও বাতাস পরিষ্কারের কাজে লাগানো যেতে পারে।
কীভাবে AC হয়ে উঠবে এয়ার পিউরিফায়ার?
AC ঘরের ভিতরের বাতাস টেনে নেয় এবং তার মধ্যে থাকা তাপ বাইরে বের করে দেয়। এই বাতাস চলাচলের প্রক্রিয়াকে কাজে লাগানো সম্ভব। AC-তে উপযুক্ত HEPA ফিল্টার বসানো থাকলে বাতাসের সঙ্গে আসা অনেক সূক্ষ্ম কণা ফিল্টারে আটকে যেতে পারে।এক্ষেত্রে AC-র কম্প্রেসর চালানোর প্রয়োজন হয় না। ফ্যান মোডে চালিয়েও বাতাস চলাচল করানো যায়। তবে মনে রাখতে হবে, AC-র সাধারণ ডাস্ট ফিল্টার এবং HEPA ফিল্টারের কার্যকারিতা এক নয়।
কোথায় লাগাতে হবে HEPA ফিল্টার?
বাজারে বিভিন্ন ধরনের AC-উপযোগী HEPA ফিল্টার পাওয়া যায়। তবে কোন মডেলের AC-তে কোন ফিল্টার ব্যবহার করা যাবে, তা আগে যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
- স্প্লিট AC: ইনডোর ইউনিটের এয়ার ইনটেক অংশে উপযুক্ত ফিল্টার বসানোর ব্যবস্থা থাকতে পারে। মডেল অনুযায়ী অবস্থান আলাদা হয়।
- উইন্ডো AC: সামনের গ্রিলের পিছনে থাকা ডাস্ট ফিল্টারের জায়গায় সামঞ্জস্যপূর্ণ ফিল্টার ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে ইচ্ছেমতো ফিল্টার কেটে বা জোর করে বসানো উচিত নয়। এতে বাতাস চলাচলে বাধা তৈরি হতে পারে এবং AC-র কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। তাই প্রস্তুতকারকের নির্দেশিকা মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।
কোন মোডে চালালে বিদ্যুতের খরচ কম হবে?
শীতকালে ঘর ঠান্ডা করার প্রয়োজন না থাকলেও বাতাস পরিষ্কারের জন্য AC-র ফ্যান মোড ব্যবহার করা যেতে পারে। এই মোডে সাধারণত কম্প্রেসর চালু হয় না। ফলে কুলিং মোডের তুলনায় বিদ্যুতের খরচ অনেকটাই কম হতে পারে।তবে বিদ্যুতের খরচ নির্ভর করবে AC-র ফ্যানের ক্ষমতা, মডেল এবং ব্যবহারের সময়ের উপর। শুধু ফ্যান মোড ব্যবহার করলেই বিদ্যুতের বিল একেবারে বাড়বে না, এমনটা ভাবা ঠিক নয়।
HEPA ফিল্টার কিনতে কত টাকা লাগবে?
বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের HEPA ফিল্টার পাওয়া যায়। ফিল্টারের মান, আকার এবং AC-র সঙ্গে সামঞ্জস্যের উপর নির্ভর করে দাম পরিবর্তিত হয়।প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, ভালো মানের AC-তে ব্যবহারযোগ্য HEPA ফিল্টার কিনতে আনুমানিক ১,৫০০ থেকে ২,৫০০ টাকা খরচ হতে পারে। ফলে আলাদা এয়ার পিউরিফায়ার কেনার তুলনায় এটি সাশ্রয়ী বিকল্প হতে পারে।
ফিল্টার লাগানোর আগে যে বিষয়গুলি অবশ্যই মাথায় রাখবেন
AC-তে HEPA ফিল্টার লাগালেই সেটি সম্পূর্ণ এয়ার পিউরিফায়ারের মতো কাজ করবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ফিল্টারের মান, বাতাস চলাচলের ক্ষমতা এবং AC-র ডিজাইনের উপর নির্ভর করবে ফলাফল।
বিশেষ করে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখুন:
AC-র মডেলের সঙ্গে ফিল্টারটি সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না যাচাই করুন।
ফিল্টার লাগানোর ফলে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কি না দেখুন।
নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার বা পরিবর্তন করুন।
নির্মাতার অনুমোদন ছাড়া AC-র মূল ফিল্টার পরিবর্তন করবেন না।
ঘরের বাতাসের গুণমান ভালো রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী বায়ু চলাচলের ব্যবস্থাও বজায় রাখুন।
শীতের শুরুতেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় বাড়ছে বায়ুদূষণ। বিশেষ করে দিল্লি-সহ উত্তর ভারতের একাধিক এলাকায় বায়ুর গুণমান উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখতে অনেকেই এয়ার পিউরিফায়ার কেনার কথা ভাবছেন। তবে আলাদা যন্ত্র না কিনেও নির্দিষ্ট কিছু AC-তে উপযুক্ত HEPA ফিল্টার ব্যবহার করে বাতাস থেকে ধুলিকণা ও দূষণের কিছু উপাদান ছেঁকে নেওয়া সম্ভব। স্প্লিট AC ও উইন্ডো AC-তে কীভাবে এই ফিল্টার ব্যবহার করবেন, কত খরচ পড়বে এবং বিদ্যুতের বিল কতটা বাড়বে, জেনে নিন।













