গরম মানেই তরমুজ—শরীর ঠান্ডা রাখা থেকে তৃষ্ণা মেটানো, সব ক্ষেত্রেই এই ফলের জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু লাল টুকটুকে শাঁস খাওয়ার পর যে অংশটি আমরা ফেলে দিই, সেই খোসাতেই রয়েছে অবিশ্বাস্য পুষ্টিগুণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ‘বর্জ্য’ আসলে শরীরের জন্য একপ্রকার সুপারফুড।
‘বর্জ্য’ নয়, পুষ্টির ভান্ডার
আমাদের মধ্যে অধিকাংশই তরমুজের সবুজ খোসা ও সাদা অংশ ফেলে দিই। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, এই অংশেই রয়েছে শরীরের জন্য উপকারী নানা উপাদান। শুধু খাওয়াই নয়, এটি দিয়ে আচার, তরকারি বা চাটনিও তৈরি করা যায়।
সিট্রুলিনে ভরপুর, হৃদযন্ত্রের রক্ষাকবচ
তরমুজের খোসার সাদা অংশে রয়েছে সিট্রুলিন নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যামিনো অ্যাসিড। এটি শরীরে গিয়ে আর্জিনিনে রূপান্তরিত হয় এবং নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি করে। ফলে রক্তনালী প্রসারিত হয়, রক্ত চলাচল উন্নত হয় এবং হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে।
হজমশক্তি বাড়াতে দারুণ কার্যকর
এই খোসায় প্রচুর ফাইবার থাকে, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে। নিয়মিত খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস বা পেটের নানা সমস্যায় উপকার পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি এটি বিপাকক্রিয়া বাড়াতেও সহায়ক।
ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর
তরমুজের খোসায় রয়েছে ভিটামিন C, ভিটামিন A, ভিটামিন B-6, রিবোফ্লাভিন এবং বিভিন্ন ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট। এগুলি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।
কীভাবে খাবেন এই খোসা?
তরমুজের খোসা নানা উপায়ে খাওয়া যায়—
তরকারি হিসেবে রান্না করে
আচার বা চাটনি বানিয়ে
স্মুদি বা সালাদে মিশিয়ে
বাঙালি রান্নাঘরে এটি পেঁপের তরকারির মতো করেও বানানো যায়, যা স্বাদে ও গুণে সমান উপকারী।
তরমুজের লাল শাঁস খাওয়ার পর আমরা প্রায়ই খোসা ফেলে দিই। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই খোসাতেই লুকিয়ে রয়েছে একাধিক পুষ্টিগুণ—যা হৃদযন্ত্র থেকে শুরু করে হজমশক্তি উন্নত করতে কার্যকর।













