পুজোর আনন্দ শেষ, এবার আবার স্কুলের ব্যস্ততা। কিন্তু স্কুলে ফেরার এই সময়ে সন্তানের স্বাস্থ্যের দিকেও বাড়তি নজর রাখা দরকার। বিশেষ করে শিশুর হাতে, পায়ে কিংবা মুখের ভিতরে ছোট ছোট ফুসকুড়ি দেখা দিলে সতর্ক হন। এগুলি হ্যান্ড, ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজের লক্ষণ হতে পারে। এই সংক্রমণ শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই রোগের উপসর্গ চেনা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কী এই হ্যান্ড, ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ?
হ্যান্ড, ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ বা HFMD হল একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যা সাধারণত ছোট শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। কক্সস্যাকি ভাইরাস-সহ বিভিন্ন এন্টারোভাইরাসের কারণে এই রোগ হতে পারে। প্লে-স্কুল, ডে-কেয়ার ও স্কুলে একসঙ্গে অনেক শিশুর মেলামেশার ফলে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা বাড়ে।সাধারণত এই রোগ নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে মুখের ভিতরে ঘা হওয়ার কারণে শিশুর খাওয়া ও জল পান করতে অসুবিধা হতে পারে। ফলে শরীরে জলের ঘাটতি তৈরি হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
কোন কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন?
শিশুর শরীরে নিম্নলিখিত উপসর্গগুলি দেখা দিতে পারে—
- জ্বর: রোগের শুরুতে জ্বর ও গলাব্যথা হতে পারে।
- হাত-পায়ে ফুসকুড়ি: হাতের তালু, পায়ের পাতায় ছোট লাল দানা বা জলভরা ফোসকা দেখা দিতে পারে।
- মুখের ভিতরে ঘা: জিভ, মাড়ি ও গালের ভিতরে যন্ত্রণাদায়ক ক্ষত তৈরি হতে পারে।
- খাবারে অনীহা: মুখের ঘায়ের কারণে খাওয়া বা জল পান করার সময় ব্যথা হতে পারে।
- অস্বস্তি ও ক্লান্তি: শিশু খিটখিটে হয়ে পড়তে পারে এবং স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি দুর্বল বোধ করতে পারে।
কিছু শিশুর ক্ষেত্রে কনুই, হাঁটু, নিতম্ব বা শরীরের অন্য অংশেও ফুসকুড়ি দেখা যেতে পারে। তবে সব শিশুর ক্ষেত্রে একই রকম উপসর্গ হয় না।
চিকেনপক্সের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না
হ্যান্ড, ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজের ফুসকুড়ি দেখে অনেক সময় চিকেনপক্স বলে ভুল হতে পারে। কিন্তু দুটি রোগ এক নয় এবং এগুলির কারণও আলাদা। শুধু ফুসকুড়ির ধরন দেখে নিজে থেকে রোগ নির্ণয় করা ঠিক নয়। শিশুর জ্বরের সঙ্গে ফোসকা বা মুখে ঘা দেখা দিলে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে এই সংক্রমণ?
HFMD অত্যন্ত সংক্রামক। আক্রান্ত শিশুর লালা, নাকের সর্দি, ফোসকার তরল এবং মলের সংস্পর্শে এলে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। দূষিত খেলনা, দরজার হাতল বা অন্য কোনও জিনিস স্পর্শ করার পর হাত মুখে দিলেও ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করতে পারে।তাই স্কুল, প্লে-স্কুল ও ডে-কেয়ারে শিশুদের পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলা বিশেষভাবে জরুরি।
চিকিৎসা কী? কীভাবে শিশুকে সুস্থ রাখবেন?
এই রোগের নির্দিষ্ট কোনও অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা নেই, কারণ এটি ভাইরাসের কারণে হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে উপসর্গের ভিত্তিতে চিকিৎসা করা হয়।
- পর্যাপ্ত তরল দিন: অল্প অল্প করে বারবার জল ও উপযুক্ত তরল খাবার দিন।
- নরম খাবার খাওয়ান: মুখে ঘা থাকলে নরম ও কম ঝাল খাবার খেতে সুবিধা হতে পারে। খুব গরম, ঝাল বা টক খাবার এড়িয়ে চলুন।
- জ্বর ও ব্যথা নিয়ন্ত্রণ: শিশুর বয়স ও ওজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ দিন। নিজে থেকে ওষুধের মাত্রা নির্ধারণ করবেন না।
- বিশ্রাম নিশ্চিত করুন: শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে দিন।
- পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন: সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়ান এবং আক্রান্ত শিশুর বাসন, তোয়ালে ও খেলনা আলাদা রাখুন।
কখন দ্রুত চিকিৎসা জরুরি? শিশু জল পান করতে না পারলে, প্রস্রাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে, অস্বাভাবিক নিস্তেজ হয়ে পড়লে, শ্বাসকষ্ট হলে বা তীব্র মাথাব্যথা ও ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
স্কুলে পাঠানোর আগে কী করবেন?
শিশুর জ্বর বা অসুস্থতার লক্ষণ থাকলে তাকে স্কুলে পাঠাবেন না। এতে অন্য শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি কমবে। কখন স্কুলে ফিরতে পারবে, তা শিশুর শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসক ও স্কুলের নির্দেশিকা অনুযায়ী ঠিক করুন। মনে রাখবেন, ফুসকুড়ি শুকিয়ে গেলেই সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যায় না।
পুজোর ছুটি কাটিয়ে স্কুল, প্লে-স্কুল ও ডে-কেয়ারে ফিরছে ছোটরা। এই সময় শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে হ্যান্ড, ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ (HFMD), একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। জ্বর, মুখের ভিতরে ঘা এবং হাত-পায়ে ছোট ছোট ফুসকুড়ি এই রোগের সাধারণ লক্ষণ। অধিকাংশ শিশু প্রায় ৭–১০ দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে শিশুর শরীরে উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।













