শীতের হালকা আমেজ পড়তেই মন চাইছে পাহাড়ে হারিয়ে যেতে? কিন্তু পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের ভিড়, হোটেলের কোলাহল আর ব্যস্ত রাস্তাঘাট থেকে দূরে থাকতে চান? তা হলে আপনার ভ্রমণতালিকায় জায়গা করে নিতে পারে উত্তরবঙ্গের লুনসেল। কালিম্পং জেলার গরুবাথান এলাকার এই তুলনামূলক অপরিচিত গ্রামে রয়েছে সবুজের সমারোহ, শান্ত পাহাড়ি পরিবেশ এবং প্রকৃতিকে কাছ থেকে উপভোগ করার সুযোগ।
কোথায় রয়েছে লুনসেল?
উত্তরবঙ্গের কালিম্পং জেলার গরুবাথান অঞ্চলে অবস্থিত লুনসেল এখনও বহু পর্যটকের কাছে অচেনা। দার্জিলিং, লাভা কিংবা লোলেগাঁওয়ের মতো জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রের তুলনায় এখানে পর্যটকদের ভিড় কম থাকতে পারে। ফলে পাহাড়ের শান্ত পরিবেশে সময় কাটাতে যাঁরা ভালোবাসেন, তাঁদের কাছে এই গ্রাম বিশেষ আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।লুনসেল মূলত আপার লুনসেল ও লোয়ার লুনসেল—এই দুই অংশে বিভক্ত। মালবাজার থেকে জায়গাটির দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
চা-বাগান, সবুজ পাহাড় আর নির্জন প্রকৃতির হাতছানি
লুনসেলের অন্যতম আকর্ষণ এর প্রাকৃতিক পরিবেশ। সবুজে মোড়া পাহাড়, জঙ্গলের স্নিগ্ধতা এবং নিরিবিলি গ্রামীণ আবহ শহরের ব্যস্ততা থেকে সাময়িক মুক্তি দিতে পারে। আশপাশের পাহাড়ি পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে প্রকৃতির রূপ উপভোগ করার সুযোগও রয়েছে।ওদলাবাড়ি হয়ে লুনসেলের দিকে এগোলে পথের দু’পাশে চা-বাগানের দৃশ্য পর্যটকদের মন কাড়তে পারে। পাহাড়ের আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কুয়াশায় মোড়া প্রকৃতির সৌন্দর্য ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও মনোরম করে তুলতে পারে।
দু’দিনের ছুটিতেই মিলতে পারে মন ভালো করার সুযোগ
পাহাড়ে বেড়ানো মানেই যে একের পর এক দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে হবে, এমন নয়। লুনসেলের মতো নিরিবিলি গ্রামে সময় কাটানোর আনন্দই আলাদা। ধীরে ধীরে পাহাড়ি পথ ধরে হাঁটা, চারপাশের সবুজ দেখা কিংবা শান্ত পরিবেশে বসে প্রকৃতির শব্দ শোনা—এসবের মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যেতে পারে ছুটির আসল আনন্দ।সপ্তাহান্তে দু’দিনের ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা থাকলেও এই ধরনের গন্তব্য বিবেচনা করতে পারেন। তবে কতটা সময় লাগবে, তা নির্ভর করবে যাত্রাপথ, আবহাওয়া এবং স্থানীয় যাতায়াত ব্যবস্থার উপর।
আশপাশের এলাকাও ঘুরে দেখতে পারেন
লুনসেলে গিয়ে হাতে বাড়তি সময় থাকলে আশপাশের ছোট ছোট পাহাড়ি জনপদ ঘুরে দেখার পরিকল্পনা করা যায়। স্থানীয় মানুষের পরামর্শ নিয়ে এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও গ্রামীণ জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানার সুযোগ মিলতে পারে।তবে মনে রাখতে হবে, গ্রামের কিছু অংশে পাকা রাস্তার সুবিধা সীমিত হতে পারে। তাই বেরোনোর আগে রাস্তার অবস্থা, গাড়ির সুবিধা এবং আবহাওয়া সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে বৃষ্টি বা ঘন কুয়াশার সময় পাহাড়ি পথে যাতায়াতে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
কীভাবে পৌঁছবেন লুনসেলে?
লুনসেলে যাওয়ার জন্য ঝান্ডি কিংবা ওদলাবাড়ি হয়ে যাওয়ার বিকল্প রয়েছে। ট্রেনে যাতায়াত করলে নিউ মাল জংশনে নেমে সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে গন্তব্যে পৌঁছনোর পরিকল্পনা করতে পারেন।মালবাজার ও ওদলাবাড়ি হয়ে যাওয়ার পথে পাথরঝোড়া এবং মানজিংয়ের মতো এলাকাও পড়তে পারে। তবে যাত্রার আগে স্থানীয় গাড়ির ব্যবস্থা, রাস্তার বর্তমান পরিস্থিতি এবং থাকার জায়গা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো।
শীতের মরশুমে পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন? দার্জিলিং, লাভা কিংবা লোলেগাঁওয়ের পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের বদলে ঘুরে আসতে পারেন কালিম্পং জেলার গরুবাথান অঞ্চলের ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম লুনসেলে। চা-বাগান, সবুজ পাহাড়, নির্জন পরিবেশ আর আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথের হাতছানি—সব মিলিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি কয়েকটি দিন কাটানোর জন্য এটি হতে পারে আকর্ষণীয় অফবিট গন্তব্য।













